জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভের সময় জ্বলন্ত বস্তুর পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন দাঙ্গা পুলিশের সদস্যরা। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভের সময় জ্বলন্ত বস্তুর পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন দাঙ্গা পুলিশের সদস্যরা। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ২৭২

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি সেবার মান খারাপ হওয়ার প্রতিবাদে শনিবার দেশজুড়ে রাস্তায় নেমেছেন লাখ লাখ মানুষ। রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। তাতে ফ্রান্সে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে সহিংস বিক্ষোভগুলোর একটিতে রূপ নিয়েছে শনিবারের এই আন্দোলন।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার দুপুর পর্যন্ত ২৭২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্যারিস ছাড়াও দক্ষিণের মার্সেই, উত্তর-পশ্চিমের রেন, দক্ষিণ-পশ্চিমের তুলুজ এবং পশ্চিমের অঁজে শহরে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, মুখঢাকা কিছু ব্যক্তি লুটপাটের চেষ্টা করেছেন। তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন এবং সড়কের বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দিয়েছেন। সরকারি ক্ষমতার প্রতীকী স্থান ও সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়েও হামলা চালানো হয়েছে। এসব অস্থিরতার জন্য ‘অতি-বামপন্থীদের’ দায়ী করেছে ফ্রান্স সরকার।

পূর্ব-মধ্যাঞ্চলের লিওঁ শহরে বিক্ষোভকারীরা একটি পর্যটন কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ থেকে দেশজুড়ে আন্দোলন

প্রতিবাদে বিক্ষোভের সময় প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

গত মাসে প্যারিসের দরিদ্র বাসিন্দা–অধ্যুষিত উত্তরাঞ্চলীয় শহরতলির বিভিন্ন উচ্চবিদ্যালয়ে এ বিক্ষোভের শুরু হয়। শিক্ষকসংকট ও জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ধীরে ধীরে বৈষম্য, সরকারি ব্যয় ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়।

প্যারিসের ১৯ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী লোলা বলেন, ‘আমরা লড়াই করছি। কারণ জীবনযাত্রার খরচ অসহনীয় হয়ে উঠেছে, জ্বালানির দাম অনেক বেশি। সারা দেশে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুধু প্রতিবাদ করতে এবং আরও শিক্ষক ও ভালো শিক্ষার পরিবেশ চাইতে গিয়ে সহিংস হামলা ও আঘাতের শিকার হচ্ছে।’

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলাকালে কাঁদানে গ্যাসের একটি শেল লাথি দিয়ে সরানোর চেষ্টা করছেন মুখোশধারী এক বিক্ষোভকারী। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

শনিবার মধ্য প্যারিসে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। বিশেষ করে শঁজেলিজে ও আর্ক দ্য ত্রিয়ঁফের আশপাশে নিরাপত্তা ছিল বেশি। বিক্ষোভ মিছিল যেসব পথ দিয়ে যাওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো থেকে এসব এলাকা বাদ রাখা হয়।

অনেক বিক্ষোভকারী উজ্জ্বল হলুদ নিরাপত্তা জ্যাকেট পরে সড়ক অবরোধ করেন। এতে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর আগের মেয়াদে বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলা ‘ইয়েলো ভেস্ট’ বা হলুদ জ্যাকেট আন্দোলনের স্মৃতি ফিরে আসে।

মার্সেইয়ের মেয়র জানিয়েছেন, সিটি হল ভাঙচুর করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর শহরটিতে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হচ্ছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক কর্মী জানান, প্রায় ১০০ জন বিক্ষোভকারী মিছিলের সম্মুখভাগে যাওয়ার সময় পুলিশবিরোধী স্লোগান দেন।

বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের মধ্যে দৌড়াচ্ছেন দাঙ্গা পুলিশের সদস্যরা। প্যারিসে, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

চাপের মুখে মাখোঁ

বিক্ষোভ চলাকালে কাঁদানে গ্যাসের শেল লাথি দিয়ে সরানোর চেষ্টা করছেন মুখোশধারী এক বিক্ষোভকারী। ফ্রান্সের মার্সেই শহরে, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

প্রেসিডেন্ট মাখোঁ শুক্রবার বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর প্রেসিডেন্সির মেয়াদ এখন শেষ পর্যায়ে। এমন সময়ে ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গন বিভক্ত এবং অর্থনীতি নিয়ে তাঁর সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে।

সরকারি ঋণ কমানোর ফ্রান্সের প্রচেষ্টা বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে পারেনি। ফলে সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচ দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বিক্ষোভ চলাকালে রাস্তায় দেখা যাচ্ছে দেশটির জাতীয় জেন্ডারমেরির সাঁজোয়া যান সঁতো। ফ্রান্সের মার্সেই শহরে, ১৭ অক্টোবর ২০২৬