
সামরিক ব্যয় নিয়ে বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার আকস্মিক পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে লেখা চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সম্পদ বরাদ্দে ব্যর্থ হয়েছে সরকার।
জন হিলির পদত্যাগ স্টারমারকে এক চরম রাজনৈতিক সংকটের মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে সরকারের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকা সত্ত্বেও প্রতিরক্ষা বাজেট কীভাবে বাড়ানো হবে, সেই অমীমাংসিত প্রশ্নটি এখন নতুন করে সামনে চলে এসেছে।
যুক্তরাজ্যের সামরিক ব্যয়বৃদ্ধির ক্রমবর্ধমান চাহিদা কীভাবে মেটানো হবে, তা নিয়ে কয়েক মাস ধরে প্রতিরক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলোচনা চলছিল। এর ফলেই গত বছর প্রকাশের কথা থাকলেও ‘ডিফেন্স ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান’ বা প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনাটি এখনো আলোর মুখ দেখেনি।
ব্রিটিশ জলসীমায় রাশিয়ার ঘন ঘন অনুপ্রবেশের ফলে তৈরি হওয়া ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা বিনিয়োগের এই পরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সামরিক কর্তারা; কিন্তু সরকার এখন ঋণের বোঝা কমাতে হিমশিম খাচ্ছে। এর ওপর দেশটিতে বর্তমানে করের বোঝা গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী স্টারমার যখন নিজের গদি টেকাতে লড়াই করছেন, ঠিক তখনই এই প্রভাবশালী মন্ত্রী পদত্যাগ করলেন। এর আগে গত মে মাসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং পদত্যাগ করেছিলেন। অন্যদিকে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম নামের আরেক নেতা আবারও সামনের সারির রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছেন এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী স্টারমারকে লেখা চিঠিতে হিলি সরাসরি বলেন, ‘বর্তমান ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে দেশকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ বরাদ্দে আপনি যেমন অক্ষম ছিলেন, তেমনি অর্থ মন্ত্রণালয়ও (ট্রেজারি) এতে রাজি ছিল না।’
প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষাশিল্প ক্ষোভ জানিয়েছে। তাদের দাবি, এর ফলে তারা দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগ করতে পারছে না।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা থেকে সরে আসছে। ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলের যুদ্ধ বুঝিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাজ্যের সামরিক প্রস্তুতিতে বড় ঘাটতি আছে। কারণ, ওই অঞ্চলে দ্রুত কোনো উন্নত যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে পারেনি ব্রিটিশ নৌবাহিনী।
সশস্ত্র বাহিনীকে যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করতে সমরাস্ত্র ও সরঞ্জামের জন্য এই পরিকল্পনায় অর্থায়নের রূপরেখা থাকার কথা। গত বুধবার স্টারমার জানিয়েছিলেন, আগামী ৭ জুলাই ন্যাটো সম্মেলন শুরুর আগেই এই পরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে।
হিলি তাঁর চিঠিতে বলেন, ‘প্রতিরক্ষা বিনিয়োগের জন্য যে পরিমাণ অর্থের কথা আমাকে গত সোমবার জানানো হয়েছে, তা বর্তমান বিপজ্জনক সময়ে দেশের চাহিদার তুলনায় অনেক কম।’
হিলি আরও বলেন, ‘আমাকে এখন এমন সব সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে, যা আমাদের বাহিনীর সক্ষমতা কমিয়ে দেবে। এতে অভিযানে থাকা সদস্যদের ঝুঁকি বাড়বে এবং দেশ আরও অনিরাপদ হয়ে পড়বে।’