বছরের শেষ সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ভলোদিমির জেলেনস্কি
বছরের শেষ সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ভলোদিমির জেলেনস্কি

ইউক্রেন বাহিনী আরও ৫ লাখ সেনা চায়: জেলেনস্কি

রাশিয়ার বিপক্ষে যুদ্ধের দুই বছর পূর্তির প্রাক্কালে ইউক্রেন বাহিনী আরও পাঁচ লাখ মানুষকে সেনা কার্যক্রমে দেখতে চায় বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। যুদ্ধ নিয়ে কিয়েভে গতকাল মঙ্গলবার বছরের শেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

জেলেনস্কি বলেন, কমান্ডাররা আরও সাড়ে চার থেকে পাঁচ লাখ সেনাসদস্য চান। বিষয়টিকে ‘সংবেদনশীল’ ও ‘ব্যয়বহুল’ উল্লেখ করেছেন তিনি। সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগে সমর্থন দেওয়ার আগে বিস্তারিত জানা দরকার বলেও মনে করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। সেনা সংখ্যার বিষয়ে তিনি বলেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে ইতিমধ্যে পাঁচ লাখ সেনা মোতায়েন রয়েছে।

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া নিয়ে অনেকটা জটিল পরিস্থিতে রয়েছে ইউক্রেন। নতুন সহায়তা তহবিল পেতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো থেকে অনিশ্চয়তার খবর আসছে। এর মধ্যে যুদ্ধের ময়দানে ইউক্রেন বাহিনীতে আরও সেনা বাড়ানোর ইচ্ছার কথা জানালেন জেলেনস্কি। আরও সেনা মোতায়েনের অর্থ খরচ বাড়ানো।

চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন কংগ্রেসে ইউক্রেনের জন্য ৬০ বিলিয়ন ডলারের একটি যুদ্ধ সহায়তা প্যাকেজ আটকে দেয় রিপাবলিকানরা। এরপর গত সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৫০ বিলিয়ন ইউরোর একটি তহবিল আটকে দিয়েছে হাঙ্গেরি। যদিও ইউরোপের নেতারা বলে যাচ্ছেন, ইউক্রেনে সহায়তা বন্ধ করা হবে না।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই দখলদার রুশ বাহিনীর বিপক্ষে লড়াইয়ের জন্য গোলাবারুদের ঘাটতিতে রয়েছে ইউক্রেন। শীতের শুরুতে কিয়েভের পাল্টা আক্রমণ থেমে যাওয়ার উপক্রম। এই সময় রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

হঠাৎ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পিছুটানে যুদ্ধে ইউক্রেনের অবস্থা কঠিন হয়ে আসছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের ফার্স্টলেডি ওলেনা জেলেনস্কা বলেন, পশ্চিমা সমর্থন ছাড়া মারা পড়ার মতো বিপদে পড়বে ইউক্রেনের মানুষ।

অন্যদিকে ইউক্রেনের চলমান পরিস্থিতি সুবিধা এনে দিয়েছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে। চলতি সপ্তাহেই তিনি বলেছেন, তাদের বাহিনী আক্রমণ অব্যাহত রাখবে। সব লক্ষ্য অর্জনের অঙ্গীকার করেন তিনি।

পুতিন জানান, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধে ৬ লাখ ১৭ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তবে যুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও যোগাযোগ সমস্যার বিষয়টি স্বীকার করেন রুশ প্রেসিডেন্ট। এমন পরিস্থিতিতে তিনি আরও বেশি ড্রোন উৎপাদনের তাগিদ দেন।

জেলেনস্কির বছরের শেষ সংবাদ সম্মেলনটি কিয়েভে অনুষ্ঠিত হলেও সংবাদ সম্মেলনস্থল ও সময় সাধারণ মানুষের কাছে গোপন রাখা হয়। ইউক্রেনীয় ও বিদেশি গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের চিঠির মাধ্যমে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন জেলেনস্কি। একপর্যায়ে তিনি জানান, ইউক্রেন বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডাররা প্রস্তাব দিয়েছেন, দেশের এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তাঁরা আরও সাড়ে চার থেকে পাঁচ লাখ মানুষকে সেনা কার্যক্রমে চান।

এমন প্রস্তাবে জেলেনস্কির জবাব, ইউক্রেন বাহিনীর প্রস্তাবের কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয় তিনি জানতে চান। মিলিয়ন সদস্য নিয়ে গঠিত ইউক্রেনের শক্তিশালী সেনাবাহিনীর কী হবে, যাঁরা দুই বছর ধরে দেশকে রক্ষা করছেন, তাঁদের কী হবে? পালাক্রমে কাজ করানো (রোটেশন), ছুটির দিনগুলোয় কী হবে? সেনা বাড়ানোর বিষয়টি বৃহৎ পরিসরের পরিকল্পনা হওয়া উচিত বলে মনে করেন জেলেনস্কি। তবে যুদ্ধের ময়দানে নারীদের নিয়ে আসার প্রস্তাব নাকচ করে দেন তিনি।

বিবিসির সাংবাদিক জেসিকা পার্কার প্রশ্ন করেন, ইউক্রেন কী যুদ্ধে হারার পর্যায়ে চলে এসেছে? জেলেনস্কি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন– ‘না’।

সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি আরও কিছু বিষয় তুলে ধরেন। এর মধ্যে একটি হলো– ২০২৪ সালে ১০ লাখ ড্রোন তৈরিতে ইউক্রেনকে সক্ষম করে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা বলেছেন।

সংবাদমাধ্যমে খবর, ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ভ্যালেরি জালুঝনি ও রাশিয়ার সেনাপ্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভ গোপনে একটি আপসরফা করছেন, যা ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাবে। বিষয়টি নিয়ে ভ্যালেরি জালুঝনি সঙ্গে জেলেনস্কির সম্পর্কের টানাপোড়েনের গুঞ্জন রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জানালেন, জালুঝনির সঙ্গে তাঁর ‘কাজের সম্পর্ক’ রয়েছে।

রাশিয়ার সঙ্গে বর্তমানে ইউক্রেনের দৃশ্যমান কোনো শান্তি আলোচনা নেই। এ বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তেমন কিছু বলেননি জেলেনস্কি। জানালেন, তিনি ক্রিমিয়াসহ পূর্ণ ইউক্রেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা পুনরুদ্ধার করতে চাইবেন।