ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য এবং রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর (ডানে) ও কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইন
ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য এবং রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর (ডানে) ও কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইন

এপস্টেইন–কাণ্ডে অ্যান্ড্রুর মার্কিন কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেওয়া উচিত: কিয়ার স্টারমার

ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য এবং রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের উচিত আলোচিত–সমালোচিত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইন সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেওয়া। চীন ও জাপান সফরের শেষ দিনে গত শনিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ কথা বলেন।

অ্যান্ড্রুর কি যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া উচিত, এমন প্রশ্নের জবাবে স্টারমার বলেন, ‘হ্যাঁ। আমি সব সময়ই বলে এসেছি, যাঁদের কাছে কোনো তথ্য আছে, তাঁদের সেই তথ্য শেয়ার করতে প্রস্তুত থাকা উচিত—যে পদ্ধতিতেই তাঁদের তা করতে বলা হোক না কেন।’

এরপর স্টারমার যোগ করেন, ‘তা করতে প্রস্তুত না থাকলে আপনি ভুক্তভোগীদের পক্ষের মানুষ হতে পারেন না। এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের প্রথম অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

এর আগে এপস্টেইন–কাণ্ডের বিষয়ে স্টারমারের অবস্থান কিছুটা নমনীয় ছিল। আগে তিনি একবার বলেছিলেন, শুধু যাঁদের কাছে প্রাসঙ্গিক তথ্য আছে, তাঁদের (মার্কিন কংগ্রেসে) সাক্ষ্য দেওয়া উচিত। গত নভেম্বর মার্কিন কংগ্রেসে অ্যান্ড্রুর সাক্ষ্য দেওয়া ‘তাঁর নিজস্ব ব্যাপার’ বলে মন্তব্য করেছিলেন স্টারমার। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর নতুন অবস্থানের কারণে সাবেক ডিউক অব ইয়র্ক অ্যান্ড্রুর ওপর চাপ আরও বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এপস্টেইন–কাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে গত বছরের শেষের দিকে রাজা চার্লস আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যান্ড্রুর ‘খেতাব, উপাধি ও মর্যাদা’ বাতিল করেন। তখন থেকে তিনি অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর হিসেবে পরিচিত হবেন। এরপর তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন-সংক্রান্ত আরও কিছু নথি প্রকাশ করেছে। এতে তৎকালীন প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে এপস্টেইনের নতুন কিছু বিব্রতকর ছবি এবং তাঁদের মধ্যকার ই-মেইল যোগাযোগ রয়েছে।

প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, এক নারী মেঝেতে শুয়ে আছেন। আর তাঁর ওপর দুই হাত ও পায়ের ওপর ভর দিয়ে ঝুঁকে আছেন অ্যান্ড্রু। ছবিগুলো কোন পরিপ্রেক্ষিতে তোলা, তা জানা যায়নি। দুজনেই পোশাক পরা ছিলেন। কোথায় ও কবে ছবিগুলো তোলা হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়।

দ্বিতীয় নারীর অভিযোগ

এদিকে অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য হয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন আরও এক নারী। তাঁর অভিযোগ, অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের জন্য এপস্টেইন তাঁকে যুক্তরাজ্যে পাঠিয়েছিলেন। ওই নারীর আইনজীবী বিবিসিকে এ কথা বলেছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাটি ২০১০ সালে অ্যান্ড্রুর বাসভবন রয়েল লজে ঘটেছে। ওই নারী ব্রিটিশ নাগরিক নন এবং ঘটনার সময় তাঁর বয়স ছিল ২০–এর কোঠায়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আইনি সংস্থা এডওয়ার্ডস হেন্ডারসনের আইনজীবী ব্র্যাড এডওয়ার্ডস ওই নারীর পক্ষে আইনি লড়াই চালাচ্ছেন। সেই নারীর বর্ণনা অনুযায়ী তাঁর আইনজীবী বলেছেন, অ্যান্ড্রুর সঙ্গে রাত কাটানোর পর তাঁকে (অভিযোগকারী নারী) বাকিংহাম প্যালেস ঘুরিয়ে দেখানো হয়েছিল। সেখানে চা আপ্যায়নও করা হয়।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বিবিসি নিউজ অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তবে এখন পর্যন্ত তিনি এসব অভিযোগের বিষয়ে কিছু বলেননি। এর আগে ৬৫ বছর অ্যান্ড্রু এপস্টেইন–কাণ্ডসংক্রান্ত সব অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছেন।

এডওয়ার্ডস বিশ্বজুড়ে এপস্টেইনের হাতে নিগৃহীত দুই শতাধিক ভুক্তভোগীর পক্ষে আইনি লড়াই চালাচ্ছেন। তিনি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী আরেক নারী ভার্জিনিয়া জিউফ্রের আইনজীবীও ছিলেন। জিউফ্রে অভিযোগ করেছিলেন, ২০০১ সালে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের জন্য তাঁকে লন্ডনে আনা হয়েছিল। ওই সময় জিউফ্রের বয়স ছিল ১৭ বছর। তিনি গত বছর আত্মহত্যা করেন।

অন্যদিকে দোষী সাব্যস্ত যৌন অপরাধী এপস্টেইন ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট নিউইয়র্কের ম্যানহাটানে কারাবন্দী অবস্থায় আত্মহত্যা করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছিল সিএনএনের এক প্রতিবেদনে।