ক্লাসরুমে টাই পরা রোবট
ক্লাসরুমে টাই পরা রোবট

টাই পরে স্কুলে যাচ্ছে রোবট শিক্ষার্থীরা: ক্লাসের ফাঁকে খেলছে, পিয়ানোও বাজাচ্ছে

গলায় স্কুলের নির্দিষ্ট টাই পরা একঝাঁক শিক্ষার্থী। শ্রেণিকক্ষের এক কোণে কেউ গভীর মনোযোগ দিয়ে পিয়ানোতে সুর তুলছে। পাশের ঘরে আরেক দল মেতেছে টেবিল টেনিসে। আবার একটু দূরে খেলার মাঠে নিখুঁত ড্রিবলিংয়ে বাস্কেটবল ঝুড়িতে পাঠাতে ব্যস্ত কয়েকজন।

প্রথম দেখায় কোনো নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাত্যহিক দৃশ্য মনে হতেই পারে। তবে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এ শিক্ষার্থীদের কেউ রক্ত-মাংসের মানুষ নয়; সবাই মানুষের মতো দেখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট।

হলিউডের কোনো সায়েন্স ফিকশন বা কল্পবিজ্ঞানের সিনেমার দৃশ্যকে বাস্তবে রূপ দিয়ে এমন এক আজব স্কুল চালু হয়েছে চীনে। মানুষের মতো দেখতে এসব রোবটকে বাস্তব পৃথিবীর উপযোগী ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে দেশটির প্রথম বিশেষায়িত রোবট স্কুলটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের এ যুগে রোবটদের এমন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার উদ্যোগ তৈরি করেছে ব্যাপক আলোড়ন।

চীনের পূর্বাঞ্চলীয় ঝেজিয়াং প্রদেশের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির শহর হাংঝৌতে গড়ে তোলা হয়েছে ব্যতিক্রমী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। নাম হাংঝৌ রোবট স্কুল।

মানুষের মতোই রোবটদের বুদ্ধিমত্তা, আচরণ ও সার্বিক কর্মদক্ষতা ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করতে স্কুলটিতে মোট চারটি বিশেষায়িত কোর্স চালু করা হয়েছে। এগুলো হলো কারিগরি, নার্সিং, শিল্পকলা ও খেলাধুলা। প্রতিটি কোর্সের লক্ষ্য হলো, রোবটদের যান্ত্রিক সীমাবদ্ধতা দূর করে মানুষের মতো সূক্ষ্ম কাজের উপযোগী করে তোলা।

সম্প্রতি স্কুলটির ভেতরের কার্যক্রমের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর তা রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, টাই পরা রোবট শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুমে ও খেলার মাঠে মানুষের মতো চমৎকারভাবে সুনির্দিষ্ট কাজগুলো সম্পাদন করছে। বিশেষ করে পিয়ানোর রিডে তাদের আঙুলের ছোঁয়া কিংবা টেবিল টেনিসের বলের গতিপ্রকৃতি বুঝে শট নেওয়ার দৃশ্য দেখে চোখ কপালে উঠেছে প্রযুক্তিপ্রেমীদের।

এ অভিনব ও যুগান্তকারী উদ্যোগের পেছনে রয়েছে চীনের খ্যাতনামা লজিস্টিকস ও প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান নোবেললিফট গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী প্রেসিডেন্ট জু সংগুই এ রোবট স্কুলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন, ‘আশা করছি, বিশেষায়িত এই স্কুল থেকে নির্দিষ্ট মেয়াদে পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণ শেষ করার পর আমাদের রোবটগুলো বাস্তব জগতের জটিল পণ্য সরবরাহ বা লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারবে। সেই সঙ্গে তারা মানুষের বাস্তব জীবনের নানামুখী দায়িত্ব পালন এবং বিভিন্ন করপোরেট ও উৎপাদনমুখী কর্মক্ষেত্রে বড় সংকট সমাধানে সক্ষম হবে।’