
দ্বিতীয়বারের জন্য ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সর্বভারতীয় সভাপতি নির্বাচিত হলেন অমিত শাহ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ ও তাঁরই রাজ্য গুজরাটের এই রাজনীতিক পরবর্তী তিন বছর এই দায়িত্ব পালন করবেন। অর্থাৎ ২০১৯ সালে লোকসভার পরবর্তী নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বও থাকছে অমিত শাহর ওপর।
সর্বসম্মতভাবে অমিত শাহ গতকাল রোববার দ্বিতীয়বারের জন্য সভাপতি নির্বাচিত হলেও প্রবীণ নেতাদের অনেকেই দলীয় সদর দপ্তরের এই অনুষ্ঠানে যাননি। অনুপস্থিতির এই তালিকায় ছিলেন লালকৃষ্ণ আদভানি, মুরলি মনোহর যোশি, যশোবন্ত সিনহার মতো নেতারা, যাঁরা দলে বারবার মোদি-শাহ জুটির বিরোধিতা করে এসেছেন। আদভানি ও যোশি দলের মার্গদর্শকমণ্ডলের সদস্য। তবে এই অনুপস্থিতি শাহর নির্বাচনী উৎসাহে বড় হয়ে ওঠেনি। দলের অধিকাংশ নেতা, বিজেপি-শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা এবং রাজ্য নেতারা সকাল থেকেই ভিড় করেন অশোকা রোডের দলীয় অফিসে। শাহর পক্ষে মোট ১৭ দফা মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। প্রথমটি জমা দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে। তারপর একে একে তাঁর নাম প্রস্তাব করেন রাজনাথ সিং, ভেঙ্কাইয়া নাইডু, অনন্ত কুমার, জয়প্রকাশ নাড্ডার মতো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সর্বসম্মতভাবে নির্বাচিত হন ৫১ বছর বয়সী অমিত শাহ।
গত লোকসভা নির্বাচনে উত্তর প্রদেশের ভোটের দায়িত্বে ছিলেন অমিত শাহ। সেই রাজ্যের দুর্দান্ত সাফল্য (৮০-র মধ্যে ৭২ আসনে জয়ী) বিজেপিকে ৩০ বছর পর একক ক্ষমতায় সরকার গঠনের সুযোগ করে দেয়। ভোটের পর তৎকালীন সভাপতি রাজনাথ সিং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ায় দলীয় সভাপতির পদ তিনি ছেড়ে দেন।
লোকসভার নির্বাচনের পর অমিত শাহর সভাপতিত্বে বিজেপি মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, ঝাড়খন্ড ও জম্মু-কাশ্মীরের বিধানসভা ভোটে সাফল্য পান। চার রাজ্যেই বিজেপি সরকার গড়ে। কিন্তু দিল্লি ও বিহারে বিজেপির ভরাডুবির ফলে ফের অমিত শাহ দায়িত্ব পাবেন কি না, সেই প্রশ্ন ওঠে।
অমিত শাহর জয়ের ঘোষণা করেন সংসদীয় মন্ত্রী ভেঙ্কাইয়া নাইডু। তিনি বলেন, অমিত শাহর নেতৃত্বে দল এগিয়ে যাবে। একই আশা রাজনাথ সিংয়ের। তবে কংগ্রেসের নেতা কপিল সিবাল কটাক্ষ করে বলেছেন, আদভানি, যোশিদের অনুপস্থিতিই বুঝিয়ে দিচ্ছে, বিজেপির হাল কী রকম। দিল্লি ও বিহারে দলের যা হাল হয়েছে, আগামী দিনের নির্বাচনগুলোতেও বিজেপির সেই হাল হবে।