ভারতের অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মুখ পুড়লেও স্বস্তি নেই কংগ্রেসেও। আইনি যুদ্ধে জিতলে কী হবে, ৬০ সদস্যের অরুণাচল বিধানসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোটের দখলেই।
এরই মধ্যে কংগ্রেসের পদচ্যুত মুখ্যমন্ত্রী নাবুম টুকি সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ মেনে তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রীর পদ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাল্টা তোপ বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী কালিকা পলেরও। তাঁর সাফ কথা, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরেই বর্তমান সরকার টিকে থাকবে। জটিল পরিস্থিতিতে ইটানগর উড়ে গেলেন অস্থায়ী রাজ্যপাল তথাগত রায়। বল এখন তাঁর কোর্টেই।
অরুণাচল প্রদেশে নির্বাচিত কংগ্রেস সরকার উৎখাতের ঘটনা ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আদালত খারিজ করে দেওয়ায় ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় বইছে। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বিজন ধরের অভিযোগ, অরুণাচলে বিজেপির স্বৈরতান্ত্রিক ও গণতন্ত্রবিরোধী মানসিকতারই প্রমাণ মিলেছে। মুঠোফোনে প্রথম আলোকে সদ্য গঠিত নর্থ ইস্ট ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স বা নেডা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংখ্যালঘু ও কমিউনিস্টদের টার্গেট করেই নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী নিয়ে বিজেপি সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করছে। একই সুরে কামান দাগাতে শুরু করেছে কংগ্রেসও।
দলের মুখপাত্র তাপস দে প্রথম আলোকে বলেন, অরুণাচলের মতো চীন-সীমান্তবর্তী রাজ্য নিয়ে ছেলেখেলা করে মোদি সরকার বুঝিয়ে দিল তারা শুধু গণতন্ত্রেরই নয়, দেশের নিরাপত্তারও বড় শত্রু।
সমালোচনা ঝড় উঠলেও দমার পাত্র নয় বিজেপি। সাংবাদিকদের সামনে আজ বৃহস্পতিবার নেডার আহ্বায়ক তথা আসামের অর্থমন্ত্রী হীমন্ত বিশ্বশর্মার দাবি, অচিরেই উত্তর পূর্বাঞ্চল কংগ্রেসমুক্ত হবে। এখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠাই এখন বিজেপির প্রধান লক্ষ্য।
কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত উত্তর-পূর্ব ভারতের আটটি রাজ্যে অরুণাচল বাদে মাত্র মেঘালয়, মণিপুর ও মিজোরামে কংগ্রেসের সরকার রয়েছে। ত্রিপুরায় রয়েছে কমিউনিস্ট সরকার। বাকি সব কটিতেই বিজেপি বা তাদের নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার প্রতিষ্ঠিত।
সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে অরুণাচল প্রদেশে ফের সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছেন কংগ্রেসের নাবুম টুকি। এর মধ্যেই অস্থায়ী রাজ্যপাল তথাগত রায়কে তিনি চিঠি দিয়েছেন বলেও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে বার্তা দেন। তাঁর দাবি, দলছুট ফিরে এসে তাঁর সরকারকেই পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করে জনগণের সেবা করার সুযোগ দেবে। তবে দমার পাত্র নন বিজেপির সমর্থনপুষ্ট পিপলস পার্টি অব অরুণাচলের (পিপিএ) নেতা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী কালিকা পল। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, টুকি সরকার গড়লেও সেই সরকার টিকবে না। কারণ, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাঁর দিকে রয়েছে বলেই দাবি পলের।
৬০ সদস্যের অরুণাচল প্রদেশ বিধানসভা থেকে দুই সদস্য বহিষ্কৃত হওয়ায় বর্তমানে মোট সদস্য ৫৮। গত বছরের ডিসেম্বরে দলবদলের পর পিপিএর একারই সদস্য ৩০ এবং তাদের জোটসঙ্গী বিজেপির বিধায়কসংখ্যা ১১। কংগ্রেসের সদস্যসংখ্যা মাত্র ১৫ এবং দুজন নির্দল বিধায়কও আছেন বিধানসভায়। ফলে টুকি সরকার গড়লেও তা টিকিয়ে রাখা বেশ কঠিন। তবে দলবদলে অভ্যস্ত অরুণাচলের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক জটিলতা কীভাবে কাটে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।