
ভারতের আসাম রাজ্যে নাগরিক নিবন্ধনের (এনআরসি) কাজে এবার অসন্তোষ প্রকাশ করল খোদ শাসক দল বিজেপি। তাদের অভিযোগ, এনআরসির কারণে স্থানীয়রাই বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। অন্যদিকে, আসামে এনআরসিতে নাম বাদ যাওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের নমশূদ্ররা আন্দোলনের ডাক দিয়েছে।
বিজেপির অভিযোগ, নারী ও শিশুদের নামই বেশি বাদ গিয়েছে এনআরসির চূড়ান্ত খসড়ায়।
গত ৩০ জুলাই আসামে এনআরসির খসড়া প্রকাশিত হয়। এই তলিকায় ৪০ লাখ ৭ হাজার ৭০৭ জন ভারতীয়র নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের বেশির ভাগই বাঙালি।
আসাম প্রদেশ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ শইকিয়া আজ বুধবার সকালে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এনআরসিতে বহু ভারতীয়র নাম বাদ পড়েছে। শুদ্ধ এনআরসিতে একজন ভারতীয়ও যাতে বাদ না যান, সেটা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা সেই দাবিই জানাচ্ছি সরকারের কাছে।’
দিলীপ শইকিয়া আরও বলেন, নথিপত্র যাচাইপ্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে বহু নারী ও শিশুর নাম বাদ পড়েছে। এ ক্ষেত্রে বিজেপির দাবি, পরিবারের দুজন ও প্রতিবেশী একজন নাগরিক যদি নারী বা শিশুর পক্ষে সাক্ষ্য দেন, তাহলেই দিতে হবে নাগরিকত্ব।
এসব দাবি জানিয়ে রাজ্য নাগরিক নিবন্ধনের সমন্বয়ক প্রতীক হাজেলা ও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংকে স্মারকপত্র দেবে বিজেপি।
বিজেপির এই সাধারণ সম্পাদক নিজেই স্বীকার করলেন, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উত্তর প্রদেশ প্রভৃতি রাজ্য থেকে আসা বহু ভারতীয়র নাম বাদ পড়েছে এনআরসির খসড়া তালিকায়।
পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুত্ববাদী নমশূদ্র সংগঠনও এনআরসির তীব্র প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করতে চলেছে। অখিল ভারতীয় নমশূদ্র বিকাশ পরিষদের তরফে ৯ মার্চ ডাক দেওয়া হয়েছে লংমার্চের।
পরিষদের কার্যকরী সভাপতি মুকুলচন্দ্র বৈরাগী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন, বহু হিন্দু দলিত ও নমশূদ্রের নাম বাদ গিয়েছে এনআরসিতে। তারই প্রতিবাদে এই লংমার্চ।
৯ সেপ্টেম্বর তাঁরা উত্তরবঙ্গের কামাক্ষাগুড়ি থেকে ২০ কিলোমিটার পদযাত্রা করে আসাম সীমান্তের শ্রীরামপুর পৌঁছাবেন। এতে ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ অংশ নেবেন বলে মুকুলের দাবি।
মুকুলচন্দ্র বলেন, এতে কাজ না হলে সড়কপথে আসামের লাইফলাইন ২৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হবে।
এই ২৭ নম্বর জাতীয় সড়ক পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে দিয়ে আসামে প্রবেশ করেছে।