
পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি মামলায় কারাগারে থাকা ভারতের বিহার রাজ্যের তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদব (৭০) রাতে ঘুমাতে পারছেন না। কারণ হিসেবে তাঁর আইনজীবী বলছেন, আশপাশে থাকা কুকুরগুলো শুধু ঘেউ ঘেউ করে। আর সঙ্গে রয়েছে মশার উৎপাত।
চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি লালু প্রসাদকে সাড়ে তিন বছরের জেল দেন বিহারের পার্শ্ববর্তী রাজ্য ঝাড়খন্ডের আদালত। এরপর থেকে তিনি সেখানকার কারাগারেই আছেন। তবে নানা অসুস্থতার কারণে তাঁকে স্থানান্তর করা হয়েছে কারা হাসপাতালে।
লালুর আইনজীবী ভোলা যাদব প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে (পিটিআই) বলেন, তাঁর মক্কেলকে হাসপাতালের যে কক্ষে রাখা হয়েছে, তার কাছেই ময়নাতদন্তের ঘর। এর ফলে সেখানে রাতদিন ‘নেড়ি কুকুর’ ভিড় জমায়, কামড়াকামড়ি করে। তা ছাড়া ওই কক্ষের সঙ্গেই শৌচাগারের ‘নোংরা’ পাইপ। এ কারণে সেখানে দুর্গন্ধের পাশাপাশি মশার উৎপাতও বেশি। এ জন্য তাঁর মক্কেল ওই হাসপাতালের ‘পেইড ওয়ার্ডে’ থাকতে চান। এ জন্য লালু সিট ভাড়াসহ প্রয়োজনীয় অর্থ দিতে প্রস্তুত।
লালুর চিকিৎসক আর কে শ্রীবাস্তব বলেন, ‘লালু নিজের জায়গা বদলাতে কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লিখেছেন। সংশ্লিষ্ট জায়গায় সে কথা আমরা জানিয়েছি। পাশাপাশি যাতে সমস্যা না হয়, তার জন্য পৌরসভাকে চিঠি লিখে কুকুরগুলো সরিয়ে নেওয়ার কথাও বলেছি।’
আইনজীবী ভোলা যাদব আরও বলেন, কারাগারের ওই হাসপাতালে ভাড়া দিয়ে থাকা যায় এমন ১০০টি আসন রয়েছে। সেগুলো বেশ পরিচ্ছন্ন। সেখানে বর্তমানে মাত্র তিনজন রোগী আছেন। বাকি আসনগুলো খালি পড়ে আছে।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়, লালুর এমন আবেদনকে কেন্দ্র করে বিহারের রাজনৈতিক অঙ্গনে খোঁচা মারার ঘটনাও ঘটছে। যেমন ক্ষমতাসীন জনতা দল ইউনাইটেডের (জেডিইউ) মুখপাত্র নীরজ কুমার এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘(লালু) আপনি এখন কুকুর আর মশার ভয় করছেন। অথচ আপনি ক্ষমতায় থাকাকালীন বিহারের মানুষ ভয়ে তটস্থ ছিল।’