
যোগী আদিত্য নাথের উত্তর প্রদেশের মতো কেক কেটে নয়, বিজেপি শাসিত ত্রিপুরায় যথাযথভাবেই পালিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। এই উপলক্ষে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ছিল কড়া পুলিশি প্রহরা। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
সামাজিক গণমাধ্যমে একটি খবর বেশ আলোড়ন ফেলে দিয়েছে ভারতে। বিজেপি শাসিত উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌতে বিক্রি হচ্ছে ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিশেষ কেক। কেকে বসানো রয়েছে ছাগলের আকৃতি। ফেসবুকে সেই ছবি দিয়ে বলা হয়েছে, এমন কেক ‘জবাই’ দিয়েই নাকি ঈদ পালন করা উচিত।
এই কেক নাকি লক্ষ্ণৌতে ভালোই বিক্রি হয়েছে। যোগী আদিত্য নাথের শাসনে কেকের মাধ্যমে কোরবানি ভারতীয় গণমাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় তুলেছে।
তবে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবার কোরবানি ঈদ নির্বিঘ্নেই পালিত হচ্ছে ত্রিপুরায়। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই। সর্বত্রই পুলিশি নজরদারি ছিল চোখে পড়ার মতো।
কিন্তু এবার কোরবানি ঈদকে ঘিরে মুসলিম এলাকাগুলোতে কিছুটা হলেও গোলমালের আশঙ্কা ছিল। বিশেষ করে স্থানীয় স্তরের বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কর্মীরা গরু জবাইয়ের বিপক্ষে ছিলেন।
ভারতীয় সময় সকাল ৯টায় ত্রিপুরার রাজধানী আগতলার গেঁদু মিঞার মসজিদে মূল ঈদের জামাতটি অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিদের পরস্পর শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায়। সরকারি ছুটির দিন থাকায় সর্বত্রই এ উৎসবের আমেজ লক্ষ করা গেছে।
এদিকে ঈদ উপলক্ষে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ত্রিপুরার রাজ্যপাল তথাগত রায় এবং মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। ত্রিপুরার নাগরিকদের মধ্যে মুসলিমদের হার ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ।
তবে নাগরিক নিবন্ধনের (এনআরসি) কারণে প্রতিবেশী আসামে এবার ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান। অথচ উত্তর-পূর্ব ভারতে সবচেয়ে বেশি মুসলিমের বাস আসামে। এ রাজ্যের জনসংখ্যার ৩৪ দশমিক ২২ শতাংশই মুসলিম।