গোরক্ষার নামে গণপিটুনি এবং বিভিন্ন ঘৃণামিশ্রিত অপরাধ রুখতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বা হয়েছে, তা জানাতে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যগুলোকে মাত্র এক সপ্তাহ সময় দিলেন। এ সময়ের মধ্যে যারা প্রতিবেদন জমা দেবে না, সেই রাজ্যগুলোর স্বরাষ্ট্রসচিবদের সর্বোচ্চ আদালতে হাজিরা দিতে হবে।
ভারতের সর্বোচ্চ আদালত আজ শুক্রবার এ নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছেন, রাজ্যগুলো এই ধরনের অপরাধ রুখতে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা সরকারি ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ জানতে পারে।
ভারতের কেন্দ্র ও বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর প্রধানত গোরক্ষার নামে গণপিটুনির ঘটনা বেড়ে যায়। এ ছাড়া বাড়ে নানা রকমের ঘৃণামিশ্রিত অপরাধের সংখ্যা। অনেকে এসব ঘটনায় হতাহত হয়েছেন। কংগ্রেসনেতা তেহসিন পুনাওয়ালা এ প্রবণতা রুখতে সর্বোচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। সেই মামলার শুনানিতে চলতি বছরের ১৭ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যগুলোকে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। কেন্দ্রকেও বলা হয়েছিল গণপিটুনি বন্ধে নতুন কোনো আইন প্রণয়ন করা যায় কি না, তা ভেবে দেখতে।
সুপ্রিম কোর্ট বলেছিলেন, প্রত্যেক রাজ্য সরকারকে প্রতি জেলায় একজন করে পুলিশকর্তাকে নিযুক্ত করতে হবে যাঁর পদমর্যাদা সুপারিনটেনডেন্টের (এসপি) সমতুল্য হতে হবে। তাঁকে সাহায্য করবেন ডিএসপি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। এই দুই কর্মকর্তা একটি স্পেশাল টাস্ক ফোর্স গঠন করবেন। সেই বাহিনীর কাজ হবে শুধু গণপিটুনি রোখা এবং এই জাতীয় কাজ সম্পর্কে খোঁজখবর সংগ্রহ করা। কিন্তু দেখা যায়, মাত্র ১১টি রাজ্য ও ৭টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। রাজ্যগুলোর এই উপেক্ষায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র, বিচারপতি এ এম খানবিলকর ও বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চ শুক্রবার নতুন করে মাত্র এক সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিলেন।
গত বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং এক বৈঠকে নতুন আইন প্রণয়ন নিয়ে আলোচনা করেন। সরকারের পক্ষে আদালতকে জানানো হয়েছে, গণপিটুনি রুখতে নতুন আইনসহ কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা বিচার করতে একটি মন্ত্রিগোষ্ঠী তৈরি করা হয়েছে।