
পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রার্থীদের ওপর সুপ্রিম কোর্টের জারি করা স্থগিতাদেশ গতকাল শুক্রবার কার্যত প্রত্যাহার করা হয়েছে। ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৩৪ শতাংশ আসনে বিজয়ী প্রার্থীদের এই স্থগিতাদেশ জারি করা হয়। প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের সমন্বয়ে গড়া ডিভিশন বেঞ্চ তা প্রত্যাহার করে নেন।
আদালত জানান, রাজ্য নির্বাচন কমিশন স্থগিতাদেশ দেওয়া ৩৪ শতাংশ আসনের প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করে তাঁদের নাম গেজেটে তুলতে পারবে।
গত ১০ মে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৩৪ শতাংশ আসনের প্রার্থীদের নির্বাচনী ফলাফলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। সেই মামলার শুনানির পর গতকাল শুক্রবার তুলে নেওয়া হয় স্থগিতাদেশ। এতে ৩৪ শতাংশ আসনে জয়ী হওয়া তৃণমূল প্রার্থীরা বৈধতা পেলেন।
সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, যেসব প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি, তাঁরা গেজেট নোটিফিকেশনের ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারবেন। এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া হোয়াটস অ্যাপ ও ই-মেইলে পাঠানো মনোনয়নপত্র নিয়ে তাঁদের প্রার্থী পদের বৈধতা দিয়ে নির্বাচনের সুযোগ দিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্ট। সেই নির্দেশকে খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। বলেছেন, পঞ্চায়েত আইনে হোয়াটস অ্যাপ বা ই-মেইলে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই।
১৪ মে পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই মোট আসনের ৩৪ শতাংশ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীরা। বাকি ৬৬ শতাংশ আসনে ভোট হয়।
এই রায়ে হতাশা নেমে আসে রাজ্যের বিরোধী দলের মধ্যে। এবার বিজেপি, কংগ্রেসসহ বাম দল এই পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে জোর ধাক্কা খেল। ক্ষমতাসীন তৃণমূলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আনন্দ-উল্লাস। খুশি হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।
সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার পর বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পঞ্চায়েতের শোধ নেবে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। আমরা ভেবেছিলাম, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী আসনে ফের নির্বাচন হবে। কিন্তু আদালত সেই পথে হাঁটেননি। তবে একটা বিকল্প রাস্তা দেখিয়েছেন বিচারপতিরা। যাঁরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি, তাঁদের ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে শাসক দলের সন্ত্রাসের কথা রাজ্যবাসী জানেন। ৭৫ জনের প্রাণ গেছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ বা ভারতে নয়, গোটা বিশ্বে এমন ভয়ংকর নির্বাচন আর হয়নি। তাই আমরা চেয়েছিলাম আবার নির্বাচন হোক।’
এ বছর রাজ্যের ত্রিস্তর পর্যায়ের গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪৮ হাজার ৬৫০টি আসন, পঞ্চায়েত সমিতির ৯ হাজার ২১৭টি আসন এবং জেলা পরিষদের ৮২৫টি আসনে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। তবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর দেখা যায়, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস জেলা পরিষদের ২০৩টি আসন, পঞ্চায়েত সমিতির ৩ হাজার ৫৯টি আসন এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৬ হাজার ৮১৪টি আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দখল করে নিয়েছে। বীরভূম জেলা পরিষদের ৪২টি আসনেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছে শাসক দল তৃণমূল।
ফলে এবার নির্বাচন হয়েছে জেলা পরিষদের ৬২২টি, পঞ্চায়েত সমিতির ৬ হাজার ১৫৮টি এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩১ হাজার ৮৩৬টি আসনে। ভোট হয়েছে ১৪ মে। ফলাফল ঘোষিত হয়েছে ১৭ মে।