
পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত নির্বাচনের অনিশ্চয়তার রেশ এখনো কাটেনি। চলছে হাইকোর্টে মামলা। গতকাল শুক্রবার পঞ্চায়েতের নির্বাচনের তারিখ এবং নির্বাচনে ভোটার ও ভোটকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চে শুনানির কথা ছিল। তবে মামলার শুনানি পিছিয়ে মঙ্গলবার করা হয়েছে।
গতকাল এ নিয়ে আরও একটি মামলার শুনানি ছিল ডিভিশন বেঞ্চে। এসব মামলার শুনানি শেষে মঙ্গলবার ৮ মে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ পঞ্চায়েত নির্বাচন সংক্রান্ত সব মামলার শুনানি করবেন।
নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য একদিন সময় বাড়ানোর বিজ্ঞপ্তি জারি ত্রুটিপূর্ণ ছিল বলে কংগ্রেসের দায়ের করা একটি মামলায় গতকাল বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দারের ডিভিশন বেঞ্চ তাদের পর্যবেক্ষণ দেন। তাতে বলা হয়, পঞ্চায়েত নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি করেছে পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন কমিশন।
বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দার বলেছেন, ‘আদালত ভোট প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে চায় না। কিন্তু কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কমিশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংবিধানিক সংস্থা। তাই কমিশনের ভূমিকা স্বচ্ছ হওয়া উচিত। সংবিধানকে যাঁরা বাস্তবে প্রয়োগ করবেন তাঁদের অনেক দায়িত্ব। তাঁদের কার্যকলাপ নিয়ে কেউ যাতে প্রশ্ন তুলতে না পারে সেদিকে সজাগ থাকতে হবে তাঁদের। কিন্তু কমিশন নিজেই জটিলতা তৈরি করেছে। কমিশনের কাজের প্রক্রিয়াই তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কমিশনের এবার সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে।’
বিচারপতি আরও বলেছেন, ‘কমিশনের কাজের জন্যই এর আগে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই তিন দফার ভোট কমিয়ে এক দফায় আনা হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য একদিন সময় বাড়ানো হয়েছিল।’
এর আগে একক বেঞ্চের বিচারপতি সুব্রত তালুকদারও বলেছিলেন, নির্বাচন কমিশন কোনো ‘হোম ওয়ার্ক’ করেনি। বেঞ্চ এ কথা বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক দল নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য আদালতের এ পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করতে পারবে না বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি হবে পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে নিয়ে দায়েরকৃত মামলার। শুনানির পর জানা যাবে পঞ্চায়েত ভোট কি ১৪ মে অনুষ্ঠিত হবে, নাকি তারিখ আবার পেছাবে। এ ছাড়া নির্বাচনে নিরাপত্তার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনে আনা হবে অন্য ৫ রাজ্য থেকে পুলিশ নাকি বিরোধী দলের দাবিমত আনা হবে কেন্দ্রীয় বাহিনী?
হাইকোর্টের নির্দেশের পর রাজ্য সরকার নির্বচন কমিশনে ভোটের নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দিয়েছে গতকাল। তাতে বলা হয়েছে, পঞ্চায়েত ভোট হবে রাজ্যের পুলিশ দিয়েই। রাজ্যে রয়েছে ৪৬ হাজার পুলিশ আর ১২ হাজার লাঠিধারী পুলিশ। আর ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৪৮ হাজার ৬৫০ টি। প্রয়োজনের তুলনায় এই সংখ্যা কম হওয়ায় রাজ্য সরকার বনদপ্তর, আবগারি দপ্তর, কারা দপ্তর থেকে ২ হাজার পুলিশ আনছেন নির্বাচনী কাজে।
গত ৩১ মার্চ তড়িঘড়ি করে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের নির্দেশে রাজ্য নির্বাচন কমিশন বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা না করেই রমজানের আগে নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে একতরফা পঞ্চায়েত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। তাতে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার তারিখ দেওয়া হয় ২ এপ্রিল থেকে ৯ এপ্রিল। আর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয় ১, ৩ ও ৫ মে।
ইতিমধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস আসন্ন পশ্চিমবঙ্গের ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৩২.২ শতাংশ আসনে জিতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জেলা পরিষদের ২০৩টি আসন, পঞ্চায়েত সমিতির ৩ হাজার ৫৯টি আসন এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৬ হাজার ৮১৪টি আসন। শতাংশের হিসাবে তা ৩২.২ শতাংশ। এত আসনে জিতেও এখন স্বস্তিতে নেই শাসক দল তৃণমূল। কারণ, দলের প্রতিটি আসনে একজন করে প্রার্থী থাকলেও এখনো দলেরই বাড়তি প্রার্থী রয়েছেন ৪ হাজার ৩০২ জন। গত শনিবার দল এই অতিরিক্ত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার নির্দেশ দিলেও ওই সব প্রার্থী বরং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করে নির্বাচনের ময়দানে রয়ে গেছেন।
এবার রাজ্যের গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪৮ হাজার ৬৫০টি আসন, পঞ্চায়েত সমিতির ৯ হাজার ২১৭টি আসন এবং জেলা পরিষদের ৮২৫টি আসনে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।