বাজপেয়ির মতো সম্মান পেলে এখনই মরতে রাজি তিনি

আজম খান। ছবি টুইটার থেকে নেওয়া
আজম খান। ছবি টুইটার থেকে নেওয়া

তিনি আজম খান। বয়স এখন ৭০ বছর। পাকা রাজনীতিবিদ। উত্তর প্রদেশের মুলায়ম সিং যাদবের সমাজবাদী পার্টির এক শীর্ষ নেতা। রাজ্য বিধানসভার বিধায়ক বা এমএলএ। নিত্যনতুন মন্তব্য করা তাঁর স্বভাব। গতকাল রোববার ভারতের সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির চিতাভস্ম নিয়ে কলসযাত্রাকে কেন্দ্র করে এক বেফাঁস মন্তব্য করে বসেন।

গতকাল রোববার আজম খান টুইট বার্তায় বলেছেন, ‘যদি কোনোভাবে জানতে পারতাম, মৃত্যুর পর বাজপেয়ির মতো সম্মান পাব, তাহলে আজই মরে যেতাম।’ শোকের আবহে এই মন্তব্য করায় অনেকে অবাক হয়েছেন। শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়।

১৬ আগস্ট ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ি বার্ধক্যজনিত রোগে দিল্লির এইমস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়। বাজপেয়ির চিতাভস্ম দেশের বিভিন্ন জেলার নদীতে বিসর্জন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিজেপি। সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজ্যের বিভিন্ন জেলার নদীতে বাজপেয়ির চিতাভস্ম বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি রাজ্যের রাজধানী শহর থেকে আয়োজন করা হয় এই কলসযাত্রার। আর এই ঘটনাকে একটু বাড়াবাড়ির চোখে দেখেন সমাজবাদী পার্টির নেতা আজম খান। তাই তিনি গতকাল এই বেফাঁস মন্তব্য করেন।

যদিও বিজেপির এই কলসযাত্রা নিয়ে কটাক্ষ করেছেন বাজপেয়ির ভাইঝিও। তিনিও বলেছেন, শাস্ত্র মেনে ইতিমধ্যে বাজপেয়ির শেষকৃত্য হয়েছে। তারপর কলসযাত্রার নামে যা হচ্ছে, তা রাজনৈতিক ফায়দা লুটার জন্য। যদিও ১৯ আগস্ট বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ হরিদ্বারে গিয়ে বাজপেয়ির শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন; তারপরও এই অস্থিযাত্রা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে।

চিতাভস্ম ভাসাতে গিয়ে নৌকাডুবি
উত্তর প্রদেশের বস্তি জেলায় বাজপেয়ির চিতাভস্ম নিয়ে কলসযাত্রার পর তা বিসর্জনের জন্য গত শনিবার সন্ধ্যায় নদীর তীরে জড়ো হন বিজেপির নেতা-কর্মীরা। সে জন্য ঘাটে একটি নৌকা রাখা হয়। যথারীতি ওই নৌকায় নেতারা কলস নিয়ে ওঠেন। কিন্তু তাঁদের ভিড়ে নদীর তীরের কাছেই কাত হয়ে ডুবে যায় নৌকাটি। এ সময় নৌকায় ছিলেন উত্তর প্রদেশের বিজেপির সাবেক সভাপতি রাম ত্রিপাঠি, সাংসদ হরিশ দ্বিবেদী, বিধায়ক রাম চৌধুরীসহ বিজেপির একঝাঁক নেতা-নেত্রী। ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার দিলীপ কুমারও। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সদস্যরা ঝাঁপ দিয়ে উদ্ধার করেন নেতাদের।

জেলা প্রশাসক রাজ শেখর জানিয়েছেন, নদীর তীরে কাছেই দুর্ঘটনা ঘটেছে। বড় বিপদ এড়ানো গেছে। পুলিশ সদস্যরা ঝাঁপিয়ে পড়ে উদ্ধার করেছেন বিজেপির নেতাদের।