
আগামী বছর লোকসভা ভোটের আগে ভারতের শাসক দল বিজেপির সভাপতি পদের নির্বাচন হচ্ছে না। দলের সভাপতি অমিত শাহর নেতৃত্বেই বিজেপি আগামী লোকসভা ভোটে লড়বে। আজ শনিবার দিল্লিতে বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকের প্রথম দিনেই বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গেছে।
বিজেপির সভাপতির মেয়াদ তিন বছরের। আগামী জানুয়ারি মাসে অমিত শাহর তিন বছরের মেয়াদ শেষ হবে। কিন্তু সাংগঠনিক ভোট তখন হবে না। দলীয় সূত্রের খবর, নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকেই দেশে বিভিন্ন বিধানসভার ভোট শুরু হবে। সেই ভোট মিটতে না মিটতেই এপ্রিল-মে মাসে লোকসভার ভোট। অমিত শাহর নেতৃত্বেই বিজেপি সেই ভোটে লড়বে। সাংগঠনিক নির্বাচন হবে ভোট হয়ে যাওয়ার পর। দলীয় সূত্রের খবর, এই প্রস্তাবের বিরোধিতা কেউ করেননি।
দুদিনব্যাপী বৈঠকের উদ্বোধন হয় আজ, নবনির্মিত আম্বেদকর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে। মূল সম্মেলন শুরুর আগে দলীয় পদাধিকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন অমিত শাহ। সেখানে তাঁর ভাষণে অমিত শাহ বলেন, বিরোধীদের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করে ২০১৯ সালে বিজেপি আরও বেশি আসন জিতে সরকার গঠন করবে।
জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে কেন্দ্রীয় পদাধিকারী ছাড়াও বিভিন্ন রাজ্যের সভাপতি, জ্যেষ্ঠ কর্তা ও কর্মসমিতির সদস্যরা আমন্ত্রিত হন। এই প্রথম কর্মসমিতির বৈঠক হচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির অবর্তমানে। আম্বেদকর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের আশপাশে যত হোর্ডিং, প্রতিটিতেই বাজপেয়ির হাসিমুখের ছবি। বস্তুত বাজপেয়িকে বড় করে তুলে ধরে বিজেপি এবার ‘অজেয় বিজেপি’ স্লোগান বাছাই করেছে। কর্মসমিতির বৈঠকে এই স্লোগান অনুমোদন করিয়ে নেওয়া হয়। পদাধিকারীদের বৈঠকে অমিত শাহ বলেন, বিজেপি যে অজেয়, লোকসভা ভোটে আরও একবার জিতে দল তা প্রমাণ করে দেবে। কাল রোববার দ্বিতীয় দিনের বৈঠকে সমাপ্তি ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
এই বছরের শেষাশেষি বিজেপিশাসিত রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ে ভোট হওয়ার কথা। একই সঙ্গে ভোট হবে কংগ্রেসশাসিত মিজোরামে। তেলেঙ্গানা বিধানসভা ভেঙে দিয়ে এই সময়ে ভোট গ্রহণের আরজি জানিয়েছেন তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রসমিতির নেতা ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও। অমিত শাহ বলেন, ভোট করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তবে বছর শেষে এই পাঁচ রাজ্যে ভোট হচ্ছে ধরে নিয়েই দলকে তৈরি হতে হবে।
সাড়ে চার বছর আগে দলগতভাবে বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদির যে ভাবমূর্তি ছিল, এই মুহূর্তে তার ঔজ্জ্বল্য অনেকটাই কমে গেছে। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সামাজিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তফসিল জাতি-উপজাতি, দলিত ও সংখ্যালঘু মুসলমানদের মনে নিরাপত্তাহীনতা জন্ম নিয়েছে। এই অবস্থায় সম্মেলনস্থল হিসেবে আম্বেদকর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারকে বেছে নিয়ে বিজেপি তফসিলভুক্ত মানুষ ও দলিতদের একটা বার্তা দিতে চেয়েছে। অমিত শাহ ভাষণে বলেছেন, নরেন্দ্র মোদির দৃঢ় নেতৃত্ব এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নকে তুলে ধরে দলকে ভোটে যেতে হবে। কিন্তু দলের সামনে এই মুহূর্তের বড় চ্যালেঞ্জ পেট্রল-ডিজেলের মাত্রাছাড়া মূল্যবৃদ্ধি, রুপির অবমূল্যায়ন, কৃষক বিক্ষোভ, সামাজিক হানাহানি এবং কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি।