যে রাজ্যে প্রতি দুজনের একজন করোনা পজিটিভ

ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজ্য গোয়াতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার সর্বোচ্চ।
রয়টার্স ফাইল ছবি।

ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজ্য গোয়াতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার সর্বোচ্চ। সেখানে পরীক্ষায় প্রতি দুজনে একজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার এই রাজ্যে করোনাভাইরাস শনাক্তের হার সর্বোচ্চ ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ শনাক্ত হয়। খবর সিএনএনের।

গোয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিশ্বজিৎ পি রানে বলেন, করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে কড়া লকডাউন জরুরি। রাজ্যটির প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো এই সর্বোচ্চ শনাক্তের হারের কথা জানিয়েছে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিশ্বজিৎ পি রানে আরও বলেন, পরিস্থিতির কারণেই এখন লকডাউন দেওয়া খুব প্রয়োজন। করোনা শনাক্তের হার কমিয়ে আনা দরকার। সেই সঙ্গে অক্সিজেন সরবরাহও নিশ্চিত করতে হবে।

গোয়া ভারতের অন্যতম পর্যটন শহর। এই রাজ্যে ১৫ লাখ মানুষের বসবাস। গত বৃহস্পতিবার রাজ্যটিতে করোনায় ৩ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ সংক্রমিত হন।
স্কুল, বার, জিমনেশিয়াম, সিনেমা ও অন্যান্য জনসমাগমস্থল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক জনসমাগমও নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

রাজ্য সরকার ঘর থেকে কাজ করতে মানুষকে উৎসাহ দিচ্ছে। রেস্তোরাঁ ও দোকানগুলো খোলার সময়ে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৪ লাখ ১ হাজার মানুষ। গত ২৪ ঘণ্টায়ও দেশটিতে করোনায় মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হয়েছে। এ সময়ে করোনায় সংক্রমিত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ১৮৭ জনের।

এ নিয়ে ভারতে করোনায় মোট ২ লাখ ৩৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হলো। আর দেশটিতে মোট সংক্রমিত হয়েছে ৩৭ লাখ ২৩ হাজার ৪৪৬ জন।

সংক্রমণ ঠেকাতে ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে লকডাউন ও কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে। তামিলনাড়ুতে দুই সপ্তাহের কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে। আর কর্ণাটকে দুই সপ্তাহের লকডাউন দেওয়া হয়েছে। মণিপুরে ১৭ মে পর্যন্ত কারফিউ বাড়ানো হয়েছে।

এ বছরের জানুয়ারিতে ভারতে সবচেয়ে বড় পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। তবে অনেক রাজ্যে টিকা নিয়ে সংকট দেখা দেয়। ফলে, টিকাদান কর্মসূচি ধীরগতিতে চলতে শুরু করে।