
বিজেপি মনে করে, তারাই ভারতে হিন্দুত্বের ধারক-বাহক। কিন্তু কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর হঠাৎ করে কৈলাস পর্বত ও মানস সরোবর তীর্থযাত্রাকে মেনে নিতে পারছেন না ভারতের দলটির কিছু নেতা-কর্মী। রাহুলের তীর্থযাত্রাকে ভুয়া প্রমাণ করতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন তাঁরা। রাহুল যাতে বাড়তি রাজনৈতিক সুবিধা না পান, তারই জন্য এত কথা বিজেপির।
বিজেপি অভিযোগ তুলেছে, রাহুল গান্ধী আমিষ খেয়ে তীর্থযাত্রা শুরু করেছেন। নেপালের রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতির দিয়ে ওই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। এবার বিজেপির অভিযোগ, রাহুল গান্ধী মানস সরোবরে যাননি। গেলেও ছবি পোস্ট করেনি কেন? রাহুল অন্য কোথায় গিয়ে মানস সরোবরের প্রচার চালাচ্ছেন। ভুয়া ছবি পোস্ট করেছেন।
বিজেপির মোদি সরকারের মন্ত্রী গিরিরাজ সিং বলেছেন, ‘ছবিতে রাহুলের হাতে লাঠি থাকলেও লাঠির ছায়া নেই, এ তো ফটোশপ!’
বিজেপির অভিযোগের পর রাহুলের কাছ থেকে তীর্থযাত্রার ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে।
অভিযোগের জবাবে কংগ্রেস বলেছে, ৭ ঘণ্টা ৪৩ মিনিটে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ক্যালরি ঝরিয়ে ৩৪ কিলোমিটারের বেশি পথ হেঁটেছেন রাহুল। প্রায় সাড়ে ৪৬ হাজার পা ফেলেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কি তা পারবেন?
বিজেপি এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে, পাহাড়ি রাস্তায় এত কম সময়ে ৩৪ কিলোমিটার পথ হাঁটা কি সম্ভব?
রাহুল গত ৩১ আগস্ট হিমালয়ের কোলের তীর্থভূমি কৈলাস পর্বত ও মানস সরোবর তীর্থযাত্রা শুরু করেন। নেপাল হয়ে তিনি পাড়ি জমান কৈলাসে। ১২ দিনের কৈলাস পর্বত ও মানস সরোবর যাত্রায় তিনি গত বুধবার পৌঁছান মানস সরোবরে। সংবাদমাধ্যমে বলছে, তীর্থে পা দিতে রাহুল ৬০ কিলোমিটার পথ হেঁটেছেন।
কৈলাস পর্বত ও মানস সরোবর হিন্দু-বৌদ্ধ-জৈন ধর্মাবলম্বীদের অতি পবিত্র তীর্থস্থান। এই তীর্থভূমির অবস্থান হিমালয়ের কৈলাস পর্বতের মানস সরোবরজুড়ে। হিমালয়ের কৈলাস পর্বতের পাদদেশে ঐতিহাসিক মানস সরোবর। ৪১০ কিলোমিটার বিস্তৃত ও ১৫ হাজার ৬০ ফুট উঁচুতে এই সরোবরের অবস্থান। সরোবরের সর্বাধিক গভীরতা ৩০০ ফুট। সরোবরের জল স্বচ্ছ ও পবিত্র। তবে শীতকালে অঞ্চলটি বরফে ঢাকা থাকে।