
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সতর্কবার্তা পেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মন্ত্রণালয় একটি চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছে, নির্বাচনী সহিংসতা ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং তা কেন জানানো হয়নি। খবর এনডিটিভির।
গত রোববার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যজুড়ে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এই সহিংসতার জন্য রাজ্যের বিজেপি শাখা ও বাম জোট দায়ী করেছে মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেসকে।
এই নির্বাচনে বিশাল জয় পেয়েছে মমতার দল। রোববার নির্বাচনী ফল আসতে শুরু করার পর থেকে এই সহিংসতা শুরু হয়। কিন্তু এই সহিংসতা ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানে না কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব অজয় ভাল্লা বলেন, ‘ফল প্রকাশের পরদিন যেসব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, তার বিস্তারিত জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমি আপনাকে (মমতা) স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, কোনো প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি। এই প্রতিবেদন চেয়ে দ্বিতীয় যে চিঠিটি দেওয়া হয়েছে, তার উত্তর না দিলে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হবে।’
ভাল্লা জানিয়েছেন, প্রথম চিঠি দেওয়ার দুই দিন পর দ্বিতীয় চিঠিটি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে সহিংসতা ঠেকাতে কেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তা রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে জানতে চেয়েছেন ভাল্লা। তিনি লিখেছেন, যেসব প্রতিবেদন পাওয়া যাচ্ছে, তাতে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতা থামেনি। এই সহিংসতা থামাতে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হলো, তা–ও দ্রুততার সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো উচিত।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক পরিস্থিতি জানতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজ থেকেও পদক্ষেপ নিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি দলকে রাজ্যর পরিস্থিত দেখতে পাঠানো হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতা পরিস্থিতি উল্লেখ করে গতকাল বুধবার একটি নোট দিয়েছে ভারতের ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশন (এনএইচআরসি)। তারা বলেছে, রোববার নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে সহিংসতা শুরু হয়। এ নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যেতে ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এনএইচআরসি।