
কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্কের খেসারত দিতে হলো শিক্ষিকা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে। গত বুধবার তৃণমূল কংগ্রেসের শিক্ষা সেলের বৈঠকে দলীয় সংগঠন থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়।
বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সংগঠন ওয়েবকুপার রাজ্য কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। তাঁর সঙ্গে কলকাতার মেয়র মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সম্পর্ক গড়ে উঠলে তৃণমূল কংগ্রেসে সমালোচনা শুরু হয়। এই সম্পর্ক নিয়ে মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় তাঁর স্ত্রী স্বপ্না চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে পারিবারিক বিবাদে জড়িয়ে পড়েন।
বিষয়টি জানার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেয়র শোভনকে ভর্ৎসনা করেন। বৈশাখীকে ওয়েবকুপার নেতৃত্ব থেকে বাদ দেওয়ার দাবি ওঠে।
শিক্ষামন্ত্রী ও ওয়েবকুপার চেয়ারম্যান পার্থ চট্টোপাধ্যায় গত বৃহস্পতিবার নতুন কমিটি করতে তৃণমূল ভবনে বৈঠক ডাকেন। সেখানে মাত্র ছয় মাস আগে গঠিত কমিটি পুনর্গঠিত করা হয়। ৬৫ সদস্যের নতুন কমিটি হয়। সেখান থেকে বৈশাখীকে বাদ দেওয়া হয়।
শিক্ষিকা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এত দিন তৃণমূলের পক্ষ থেকে আমাকে নিয়ে তির্যক মন্তব্য করা হতো। এবার তা বন্ধ হবে। তারপরও যদি কোনো মন্তব্য আসে, তবে ছেড়ে কথা বলব না। যদি তৃণমূলের নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কোনো মন্তব্য আসে, তবে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।’
তৃণমূল নেতা শোভন চট্টোপাধ্যায় ২০১০ সাল থেকে কলকাতা পৌর করপোরেশনের মেয়র পদে রয়েছেন। এ ছাড়া তিনি রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য। বিধায়কও। তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি।
শিক্ষিকার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠার পর তিনি দলীয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে গত ২৯ আগস্ট সব পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য আবেদন জানান। তবে মমতা সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। মেয়র শোভন স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ চেয়ে গত বছরের ১৩ নভেম্বর কলকাতার আলীপুর দায়রা আদালতে মামলা করেছেন। মেয়র নিজের বেহালার বাসভবন ছেড়ে কলকাতার গড়িয়াহাটের একটি আবাসনে ভাড়ায় থাকতে শুরু করেন।
মমতাও বারবার মেয়রকে এ ব্যাপার নিয়ে এগোতে নিষেধ করেছেন। তাতে সায় দেননি মেয়র। গত ২৭ আগস্ট রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে মমতা মেয়র শোভনকে ভর্ৎসনা করে বলেন, ‘কাজ তো কিছুই করছ না?’ এরপর ২৯ আগস্ট মমতার কাছে তিনি ওই আবেদন দেন। সেখানে মেয়র শোভন লেখেন, ‘মরে গেলেও তিনি সেই সম্পর্কের বাঁধন থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন না। উপকারী বন্ধুর সঙ্গে বেইমানি করতে পারবেন না।’