
ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই আজ বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন শেষ হলো। ২৯৪ আসনে অনুষ্ঠেয় ৮ দফার এই নির্বাচনের আজ ছিল শেষ দফার নির্বাচন। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় নির্বাচন।
আজকে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে কড়া নিরাপত্তা এবং করোনাবিধি মেনে। আজ ভোট নেওয়া হয়েছে ৪ জেলার ৩৫টি আসনে। জেলা চারটি হলো মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম এবং উত্তর কলকাতা। এর মধ্যে মালদার ৬টি, মুর্শিদাবাদের ১১টি, বীরভূমের ১১টি এবং উত্তর কলকাতার ৭টি আসন রয়েছে। এই ৩৫টি আসনের প্রার্থীর সংখ্যা ২৭৮। আজ ভোট নেওয়া হয়েছে ১১ হাজার ৩৬৭টি ভোটকেন্দ্রে।
এই নির্বাচনের ফল ঘোষিত হবে ২ মে রোববার। এর আগে প্রথম দফায় ২৭ মার্চ ৩০টি, দ্বিতীয় দফায় ১ এপ্রিল ৩০টি, তৃতীয় দফায় ৬ এপ্রিল ৩১টি, চতুর্থ দফায় ১০ এপ্রিল ৪৪টি , পঞ্চম দফায় ১৭ এপ্রিল ৪৫টি, ষষ্ঠ দফায় ২২ এপ্রিল ৪৩ এবং সপ্তম দফায় ২৬ এপ্রিল ৩৪টি আসনে ভোট নেওয়া হয়। তবে দুই প্রার্থী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ায় সপ্তম দফায় ৩৬ আসনের পরিবর্তে ৩৪ আসনে ভোট নেওয়া হয়।
হামলা, ভাঙচুর,বোমা বিস্ফোরণ
আজকের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল, বোলপুর আসনের বিজেপি প্রার্থী অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ওপর হামলা। অভিযোগ করা হচ্ছে, তৃণমূলের ভাড়াটে গুন্ডারা এ হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় অনির্বাণের গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। বীরভূমের ইলমবাজারের ভোটকেন্দ্রে তাঁকে বাঁশ-লাঠি নিয়ে তাড়া করা হয়। এ ছাড়া আজ সকালে কলকাতার মহাজাতি সদন, বিধান সরণি, রবীন্দ্র সরণি, জোড়াসাঁকো এলাকায় বোমা ফাটানোর ঘটনা ঘটেছে।
বীরভূমের নানুরে বিজেপির এজেন্টকে মারধর করা হয়েছে। বোলপুরে বিজেপির বুথ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। হরিহরপাড়ায় তৃণমূল ও জাতীয় কংগ্রেসের সংঘর্ষের জেরে দুই পক্ষের বাড়ি-গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। ময়ুরেশ্বরে বিজেপির এজেন্টকে ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। বেলেখালি গ্রামের একটি ব্যাগে পড়ে থাকা বোমা উদ্ধার হয়েছে। কলকাতার বেলঘাটায় সংবাদমাধ্যমের একটি গাড়িতে হামলা হয়েছে।
কলকাতার জোড়াসাঁকোয় বিজেপির প্রার্থী মীনাদেবী পুরোহিতের গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। বোমা ছোড়া হয়েছে তাঁর গাড়ির ওপর। নানুরে বিজেপির প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। লাভপুরে বোমা উদ্ধার হয়েছে। কলকাতার চৌরঙ্গীতে তৃণমূলের জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মালদহের মানিকচকে বিজেপির প্রার্থীর ওপর হামলা হয়েছে। বীরভূমের ইলমবাজারে বিজেপির এজেন্টের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। নানুরের সুন্দরপুরে একদল নারীর ভোটার কার্ড ছিনিয়ে ভোট দিয়ে দেন স্থানীয় নেতারা। এরপর ভোটার কার্ড নিয়ে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার কথা বলেন। এই নিয়ে সংঘর্ষ হয় দুই দলের।