২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিরোধী দলগুলোর এককাট্টা হওয়া উচিত: অমর্ত্য সেন

কলকাতার শিশির মঞ্চে প্রতীচী ইনস্টিটিউট আয়োজিত ‘ভারত কোন পথে’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় অমর্ত্য সেন। ছবি: ভাস্কর মুখার্জি
কলকাতার শিশির মঞ্চে প্রতীচী ইনস্টিটিউট আয়োজিত ‘ভারত কোন পথে’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় অমর্ত্য সেন। ছবি: ভাস্কর মুখার্জি

ভারতের ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিরোধী দলগুলোর এককাট্টা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন নোবেলজয়ী প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় কলকাতার শিশির মঞ্চে প্রতীচী ইনস্টিটিউট আয়োজিত ‘ভারত কোন পথে’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেছেন।

অমর্ত্য সেন বলেন, ‘কে বাম, কে অ-বাম না দেখে অসাম্প্রদায়িকতা এবং ধর্মনিরপেক্ষতা সামনে রেখে হাত মেলানো উচিত। এই চিন্তা নিয়েই আগামীর নির্বাচনে বিরোধীদের এগিয়ে যাওয়া উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘মাত্র ৩১ শতাংশ ভোটের জোরেই ৫৫ শতাংশ আসন পেয়ে ২০১৪ সালে একটি দল ক্ষমতায় এসেছে। তাই তাদের গুরুত্ব সংখ্যায় নয়। তবে তারা রাজনৈতিক রাস্তায় যা আয়ত্ত করা সম্ভব, তা করতে পেরেছে। এই কথাগুলো মাথায় রেখে ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তাদের এগোনো উচিত।’

অমর্ত্য সেন পশ্চিমবঙ্গের কথাও তুলেছেন। তিনি বলেছেন, কে বামপন্থী বা কে ডানপন্থী, তা না ভেবে ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নে হাত মেলানো উচিত।

অমর্ত্য সেন আজকের পশ্চিমবঙ্গের বামপন্থীদের মধ্যে নিজেদের প্রকাশ করার তেজটা কমে যাওয়ার দিক তুলে ধরে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। আসামে এনআরসি প্রকাশের পর বামেদের আগেই অ-বামপন্থী তৃণমূল কীভাবে প্রতিবাদ করে এল, সেই প্রশ্ন তুলে বলেছেন, তিনি একজন বামপন্থী। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বামপন্থীরা একমাত্র বিকল্প। বামপন্থীদের আবার সোচ্চার হওয়ার জন্য আহ্বান জানান তিনি। বামপন্থীদের ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক দলগুলোর মধ্যে বিভাজনের বিরুদ্ধে কাজ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন।

নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ অনেকটা টিপ্পনী কেটে বলেছেন, ‘ছোটবেলায় শুনতাম, ঈশ্বর আছে কি নেই। এখন অনেকেই বুঝতে পারেন না, সিপিএম আছে কি নেই!’

ভারতে নারী নির্যাতন ও নারী পাচার নিয়ে অমর্ত্য সেন বলেছেন, ‘এটা অত্যন্ত লজ্জার বিষয়। দেশের একাধিক সমস্যার মধ্যে এটি একটি অন্যতম সমস্যা। এর বিরুদ্ধেও আমাদের উদ্যোগী হতে হবে।’

অমর্ত্য সেন ভারতে সহিষ্ণুতার অভাব নিয়ে ‘বিপন্ন ভারত’ নামের একটি প্রবন্ধ সংকলনের মোড়ক উন্মোচন করেন। পরে তিনি গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বামপন্থার লড়াই নিয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশ্নের জবাবে নানা কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আবহমান ভারতে সংখ্যালঘু মানেই কিন্তু দুর্বল নয়। বুদ্ধের পেছনেও সংখ্যা ছিল না। তথাকথিত সংখ্যালঘু মানে দেশের অনেকে আপনার বিরুদ্ধে, এটা ভাবাও ঠিক নয়। তাই রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করলেই তাদের সংখ্যাগুরু হিসেবে মেনে নিলে সেটা নিজের পায়ে কুড়াল মারার মতো হবে। তাই এ ধরনের ভাবনা বর্জন করা উচিত।’