মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল, প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারী
মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল, প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারী

৩ নেতাকে নিয়ে বিপাকে তৃণমূল

দুই নেতা ও মন্ত্রিসভার সদস্যের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ। আরেক ডাকসাইটে নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ গরু পাচারের। তিন এই নেতাকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমূল সরকার। আর এসব দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিও তপ্ত।

তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা–মন্ত্রীরা নিজেদের সৎ এবং স্বচ্ছ হিসেবে তুলে ধরো দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক মঞ্চে প্রচার চালিয়ে আসছেন। সেই প্রচারেই এবার ছেদ ঘটিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই এবং ইডি।

এই তিন নেতা–মন্ত্রীর মধ্যে আছেন শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারী এবং বীরভূম জেলার তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল।

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীকে কোচবিহারের একটি বিদ্যালয়ে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষকতার জন্য রাজ্যের স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) থেকে নিয়োগ করা হয়। যদিও মন্ত্রী–কন্যা মেধাতালিকায় ছিলেন না। তাঁকে মেধাতালিকা পরিবর্তন করে চাকরি দেওয়া হয়। অঙ্কিতার চেয়ে চেয়ে বেশি নম্বর পাওয়া আরেক চাকরি প্রার্থী ববিতা সরকার এই দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। হাইকোর্ট অঙ্কিতার চাকরিকে অবৈধ ঘোষণা করে তাঁকে অবিলম্বে বহিষ্কার করার নির্দেশ দেন। শুধু তা–ই নয়, অঙ্কিতার চাকরি করতে গিয়ে পাওয়া ৪১ মাসের বেতন দুই কিস্তিতে ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। সিবিআই তদন্তে গিয়ে অঙ্কিতার মন্ত্রী-বাবার বহু সম্পত্তির হদিস পান।

এই চাকরি পরীক্ষা যখন অনুষ্ঠিত হয় এবং ফল বেরোয় তখন এই রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি তাঁর মনের মতো প্রার্থীদের নিয়োগ করার জন্য এই স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ কমিটির জন্য গড়ে দেন পাঁচ সদস্যের একটি উপদেষ্টা কমিটি। তাঁরাই মূলত নিয়োগের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতেন। আর এই কমিটি চলত শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নির্দেশে। হাইকোর্টের নির্দেশে এই নিয়োগে দুর্নীতির তদন্তের জন্য হাইকোর্ট দায়িত্ব দেয় সিবিআইকে। সিবিআই তদন্তে খুঁজে পায় বহু দুর্নীতির অভিযোগ। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে সিবিআই তাঁদের দপ্তরে হাজির হওয়ার জন্য মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে নোটিশ দিলে পার্থ চট্টোপাধ্যায় কলকাতার নিজাম প্যালেসের সিবিআই দপ্তরে গিয়ে সিবিআইয়ের নানা প্রশ্নের জবাব দিয়ে আসেন।
আজ বুধবার ফের সিবিআই তলব করেছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে।

এদিকে সীমান্তের গরু পাচার মামলারও তদন্ত করছে সিবিআই। সেখানে এই পাচার মামলায় উঠে এসেছে তৃণমূল নেতা ও বীরভূমের তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের নাম। সিবিআই অনুব্রক মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদের জান্য বারবার ডাকলেও তিনি পাঁচবার অনুপস্থিত হয়ে ষষ্ঠবারে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দেন। কিন্তু সিবিআই এরপর গতকাল মঙ্গলবার ফের অনুব্রত মণ্ডলকে ডাকলেও তিনি এড়িয়ে যান হাজিরা থেকে।

অনুব্রতের দাবি, তিনি অসুস্থ। সিবিআই এখন অনুব্রতের স্বাস্থ্য নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য এইমস বা অলইন্ডিয়া মেডিক্যাল সায়েন্সের চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে।

সিবিআই তদন্তে এই তিন নেতার বিপুল সম্পদের হদিস পাওয়ার পর এবার ওই সম্পত্তি বৈধ কি না, তা জানার জন্য সিবিআই ওই তিন নেতার আয়কর রিটার্ন চেয়েছে আয়কর দপ্তরে। ওই রিটার্ন পাওয়ার পর তা পরীক্ষা করবে সিবিআই। প্রমাণ মিললে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে আলাদা মামলা করতে পারে সিবিআই।