
ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের ৩৪তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন কংগ্রেস নেতা ডি কে শিবকুমার। আজ বুধবার বিকেলে রাজ্যের লোক ভবনের গ্লাস হাউসে রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলট তাঁকে শপথ পাঠ করান। শিবকুমার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন জি পরমেশ্বর।
কণকপুরা বিধানসভা আসন থেকে টানা আটবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন ডি কে শিবকুমার। গত ৩০ মে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের বিধানসভা দলীয় (সিএলপি) ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের এক বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে কর্ণাটকে কংগ্রেসের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়।
এর আগে ২০২০ সালে শিবকুমার কর্ণাটক প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০২৩ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে দলটিকে বড় জয়ের নেতৃত্ব দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।
আজ কর্ণাটকে মুখ্যমন্ত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে আরও ১২ জন নেতা শপথ নিয়েছেন। নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন কে এইচ মুনিয়াপ্পা, কে জে জর্জ, ইয়াথীন্দ্র সিদ্দারামাইয়া, প্রিয়াঙ্ক খাড়গে, এম বি পাতিল, সতীশ জারকিহোলি, কৃষ্ণ বাইরে গৌড়া, রামলিঙ্গ রেড্ডি, ইউ টি খাদের, ঈশ্বর খন্দ্রে, বাইরাথি সুরেশ এবং ড. শরণ প্রকাশ পাতিল।
এর আগে গত ২৮ মে কর্ণাটকের কংগ্রেস দলীয় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি জানান, দলের হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে তাঁকে পদত্যাগ করে তাঁর ডেপুটিকে (শিবকুমার) সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
হিমাচল প্রদেশের কংগ্রেস দলীয় মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে বলেন, শিবকুমার দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করছেন। তিনি সিদ্দারামাইয়ার নেওয়া নীতিগুলো এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার ছেলে ইয়াথীন্দ্র সিদ্দারামাইয়াকেও উপমুখ্যমন্ত্রী পদের অন্যতম দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া ইয়াথীন্দ্র এই গুঞ্জন নাকচ করে জানান, রাহুল গান্ধী তাঁকে আগেই মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন এবং যেকোনো দায়িত্ব পেলেই তিনি খুশি।
আজকের বর্ণাঢ্য শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির (এআইসিসি) সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপালসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। শপথ নেওয়ার আগে শিবকুমার অনুষ্ঠানে সমবেত ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের আশীর্বাদ নেন।