প্রধান প্রধান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা, ইউক্রেনের প্রতি তাঁদের সমর্থন পুনর্নিশ্চিত করতে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুগান্তকারী চুক্তিকে স্বাগত জানাতে গ্রুপ অব সেভেনের (জি-৭) নেতারা গতকাল মঙ্গলবার ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁতে শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।
এরই মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মধ্যকার একটি সংক্ষিপ্ত কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবার নজর কেড়েছে। এর ফলে ‘মেলোডি’ চকলেটের সেই গুঞ্জনটি আবার ফিরে এসেছে।
ভাইরাল এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অন্যান্য নেতার সঙ্গে গ্রুপ ছবির জন্য লাইনে দাঁড়ানোর ঠিক আগমুহূর্তে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি একে অপরকে অভিবাদন জানাচ্ছেন ও করমর্দন করছেন।
যদিও অডিওটি খুব একটা স্পষ্ট নয়, তবে মনে হয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের জনপ্রিয়তার বিষয়টি ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনির কাছে উল্লেখ করছিলেন।
জবাবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে বিখ্যাত জুটি।’
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইতালির রাজধানী রোম সফরের সময় ইতালির নেতা মেলোনিকে পার্লের এক প্যাকেট ‘মেলোডি’ টফি উপহার দেওয়ার প্রায় এক মাস পর এ ঘটনা ঘটল—যা মূলত ভাইরাল হওয়া ‘মেলোডি’ শব্দটির যোগসূত্র ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোদির এই ‘মিষ্টি’ সৌজন্যের ভিডিওটি শেয়ার করে মেলোনি লিখেছিলেন, ‘উপহারের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।’
পোস্টটিতে দেখা যায়, মোদি ও মেলোনি দুজনেই ভারতের সেই ক্যান্ডি প্রস্তুতকারক কোম্পানির তৈরি চকলেটের একটি প্যাকেট ধরে আছেন—যা এর ‘ভেরি, ভেরি চকোলেটি’ ট্যাগলাইনের জন্য পরিচিত। দুই নেতা ইন্টারনেটের এই আনন্দদায়ক ট্রেন্ডটি নিয়ে হাসছেন। ক্লিপটিতে ইতালির প্রধানমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি উপহার হিসেবে খুব খুব ভালো একটি টফি নিয়ে এসেছেন।’
‘মেলোডি’ কূটনীতি
‘মেলোডি’—মেলোনি ও নরেন্দ্র মোদির নামের এই মিশ্রণ ২০২৩ সালে তাঁদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর ইন্টারনেট কৌতুক হিসেবে শুরু হয়েছিল। বিভিন্ন বহুপক্ষীয় সম্মেলনে এই দুই নেতার মধ্যকার আন্তরিক ও অকৃত্রিম মুহূর্তগুলো ফুটিয়ে তোলা অনেক ভাইরাল ভিডিও ক্লিপ ও মিমে প্রায়ই ব্যবহৃত এই শব্দ লাখ লাখ ভিউ পেয়েছে।
মেলোনি ২০২৪ সালে প্রথমবার মোদির সঙ্গে একটি সেলফি শেয়ার করে শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে তিনি পোস্ট করেছিলেন, ‘হাই ফ্রেন্ডস, ফ্রম#মেলোডি।’
২০২৫ সালের জুনে মেলোনি জি-৭ সম্মেলন থেকে মোদির সঙ্গে একটি সেলফি ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছিলেন—‘হ্যালো, ফ্রম দ্য মেলোডি টিম’।
তার পর থেকে বৈশ্বিক অনুষ্ঠানগুলোতে এ ধরনের কথোপকথন দুই নেতার মধ্যকার আন্তরিক ব্যক্তিগত রসায়নের ধারণাকে আরও জোরালো করেছে।
তবে নরেন্দ্র মোদি ও মেলোনির এই বন্ধন কেবল ছবি তোলার সুযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি আসলে একটি গতিশীল পররাষ্ট্রনীতি। ইতালি ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যেখানে উভয় দেশই ‘ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর’ (আইএমইসি) বাস্তবায়নে কাজ করছে, যা রোমকে ইন্দো-প্যাসিফিকে ইউরোপের প্রবেশদ্বার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১ হাজার ৬৭৭ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
গত মাসে নরেন্দ্র মোদি তাঁর পাঁচ দেশ সফরের শেষ পর্যায়ে মেলোনির সঙ্গে নৈশভোজে মিলিত হন। তাঁরা ঐতিহ্যবাহী কলোসিয়াম পরিদর্শন করেন, যেখানে দুই নেতা বিভিন্ন বিষয়ে গভীর আলোচনা করেন।