‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’ বইয়ের প্রচ্ছদ। হারপার কলিন্স বইটি প্রকাশ করবে
‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’ বইয়ের প্রচ্ছদ। হারপার কলিন্স বইটি প্রকাশ করবে

সোনিয়া গান্ধীর আত্মকথা ভারতে ছাপবে হারপার কলিন্স

কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর আত্মকথা ছাপবে আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা হারপার কলিন্স। শুক্রবার এই প্রকাশনা সংস্থা এক বিবৃতিতে এই খবর জানিয়েছে। আগামী ১০ নভেম্বর ভারতে তা প্রকাশিত হবে।

সোনিয়া গান্ধীর আত্মকথা ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’ প্রকাশ করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশনা সংস্থা আলফ্রেড এ ক্নপ্ফ। ভারতে তা প্রকাশ করার জন্য চুক্তি হয়েছিল পেঙ্গুইন র‍্যানডম হাউস ইন্ডিয়ার সঙ্গে। কিন্তু পেঙ্গুইন পিছিয়ে আসে। বইটির কোনো কোনো অধ্যায়ের ‘তথ্য’ নিয়ে প্রকাশনা সংস্থা আপত্তি জানায়। লেখককে ওই অংশগুলো নতুনভাবে সম্পাদনার অনুরোধ করে। কিন্তু সোনিয়া তাতে রাজি হননি।

ফলে গত ২৮ আগস্ট পেঙ্গুইন র‍্যানডম হাউস জানিয়ে দেয় তারা বইটি প্রকাশ করছে না। পেঙ্গুইনের ওই সিদ্ধান্তের পরই আসরে নামে হারপার কলিন্স। শুক্রবার প্রকাশনা সংস্থার পক্ষ থেকে ‘এক্স’ হ্যান্ডলে জানানো হয়, আগামী ১০ নভেম্বর ভারতে তারা সোনিয়া গান্ধীর আত্মকথা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবে।

‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’কে ‘এ সময়ের অন্যতম সবচেয়ে প্রতীক্ষিত রাজনৈতিক স্মৃতিকথা’ আখ্যা দিয়ে তারা বলেছে, ‘এটি ভালোবাসা, আত্মপরিচয়, কর্তব্য ও একাত্মতাবোধের এক নাটকীয় ও গভীর ব্যক্তিগত আখ্যান, ভারতীয় প্রবাহকে খুব কাছ থেকে নিরীক্ষণ করা এক দলিল।’

হারপার কলিন্সের প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আখ্যান শুরু হয়েছে ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, যেখানে ১৯ বছরের ছাত্রী সোনিয়া মাইনো রাজীবের প্রেমে পড়েন, যিনি একদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।

বরাবরের অল্পভাষী ও আত্মকেন্দ্রিক বলে পরিচিত সোনিয়া এই বইয়ে নিজের ছেলেবেলার কথা বলেছেন। ইতালির ভেনেতোর যুদ্ধপরবর্তী জীবনের কাহিনি শুনিয়েছেন। সেই জীবন থেকে কীভাবে তিনি ভারতে এলেন এবং পরিবারের নানান মৃত্যু কীভাবে তাঁর ও ভারতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করেছে, তা বর্ণনা করেছেন। ঘটনাপ্রবাহ কেমন করে তাঁর জীবন গড়ে তুলেছে, কীভাবে বদলে দিয়েছে তাঁর জীবন, এই বইয়ে তা তিনি লিপিবদ্ধ করেছেন।

খবরে প্রকাশ, নরেন্দ্র মোদির প্রধানমন্ত্রী হওয়া, আরএসএস ও পূর্ব লাদাখে চীনা আগ্রাসন নিয়ে সোনিয়ার অভিমত নিয়ে পেঙ্গুইন র‍্যানডম হাউস তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছিল। সোনিয়াকে তারা ওই অংশগুলো সম্পাদনার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু কংগ্রেস নেত্রী রাজি হননি। বই প্রকাশে পেঙ্গুইনের রাজি না হওয়ার সেটাই কারণ। পেঙ্গুইনও এক বিবৃতিতে মোটের ওপর তা স্বীকার করে নেয়। পরে আরও এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ওই সিদ্ধান্ত তাদের নিজস্ব। বাইরের কোনো মহলের প্রভাবে নয়। এর মধ্য দিয়ে তারা বোঝাতে চায়, তাদের পিছিয়ে আসার সিদ্ধান্ত কোনো রাজনৈতিক কারণে নয়।

পেঙ্গুইন র‍্যানডম হাউস অবশ্য এর আগে অন্য দুটি বইয়ের ক্ষেত্রেও এভাবে পিছিয়ে এসেছে। সাম্প্রতিক ঘটনাটি ভারতের সাবেক সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নরবনের লেখা আত্মকথা ‘ফোর স্টার্স অব ডেস্টিনি’ নিয়ে। বইটি বিদেশে প্রকাশিত হলেও দেশে তারা প্রকাশ করেনি বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায়। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ওই বইয়ের একাংশ উল্লেখ করে লোকসভায় বলেছিলেন, লাদাখে চীনা আগ্রাসনের মোকাবিলায় উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের দায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাবেক সেনাপ্রধানের ওপরেই ছেড়ে দিয়েছিলেন। বিশিষ্ট গ্রাফিক ঔপন্যাসিক জো সাকোর লেখা ‘দ্য ওয়ান্স অ্যান্ড ফিউচার রায়ট’ বইটি প্রকাশের দায়িত্ব থেকেও পিছিয়ে আসে পেঙ্গুইন। ওই বইটি লেখা হয়েছিল ২০১৩ সালের মুজফ্ফনগর দাঙ্গার ওপর।