
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের কারা হেফাজতের মেয়াদ আরও দুদিন বৃদ্ধি করা হয়েছে। দিল্লির বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গতকাল সোমবার এই নির্দেশ দেন। আগের দিন ম্যাজিস্ট্রেট তাঁদের জামিনের শুনানি শোনেননি। সেদিন তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ওই নেতাদের মুক্তি দেওয়ার জন্য তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
জামিনের জন্য সিজেপি নেতাদের আগামীকাল বুধবার ফের ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হাজির করানো হবে।
আশুতোষ ও সৌরভের অপরাধ, আন্দোলনের জন্য নিষিদ্ধ করে দেওয়া যন্তর মন্তরে তাঁরা ঢুকে পড়েছিলেন। সেখানে ঢুকে তাঁরা শান্তি ভঙ্গ করেছেন। অন্যদের উসকানি দিয়েছেন। আইন ভেঙেছেন। বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঋতু রাজ কারা হেফাজতের মেয়াদ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে লিখিত নির্দেশে এগুলোর উল্লেখ করেছেন।
আশুতোষ ও সৌরভদের এর আগেও একবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেদিন তাঁরা যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দেখাতে দিল্লি এসেছিলেন। বিমানবন্দরে অবতরণের পর উড়োজাহাজের ভেতরে গিয়ে দিল্লি পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশের দাবি, মুচলেকায় তাঁরা বলেছিলেন, শান্তিভঙ্গের কারণ হবেন না।
দিল্লি পুলিশ সোমবার এজলাসে বলে, সিজেপি নেতারা পুলিশকে বলেছিলেন তাঁরা শান্তিভঙ্গের কারণ হবেন না। সেই প্রতিশ্রুতিতে তাঁরা বন্ডে সই করেছিলেন। তারপরও তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যন্তর মন্তরে গিয়ে বিক্ষোভ করার ডাক দেন। সেই যন্তর মন্তর, যেখানে কোনো দিন আর আন্দোলন করা যাবে না বলে নির্দেশিকা জারি হয়েছে।
বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, আশুতোষ ও সৌরভের আচরণ এমন ধারণা দেয়, আইনের প্রতি তাঁদের বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা নেই। তাঁরা প্রতিশ্রুতি দিলেও যখন তখন আইন ভাঙতে পারেন। অথচ তাঁরা সব শর্ত মানবেন এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েই আগে বিক্ষোভ দেখানোর অনুমতি পেয়েছিলেন।
দুই নেতার হেফাজত বৃদ্ধি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সিজেপি। সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকে অভিযোগ করেন, আইনি প্রক্রিয়ায় নানাভাবে দেরি করিয়ে ইচ্ছাকৃত জটিলতা সৃষ্টি করিয়ে পুলিশ ও প্রশাসন আশুতোষ ও সৌরভের মুক্তি ঠেকানোর চেষ্টা করছে। অথচ তাঁদের আটকে রাখার মতো কোনো আইনি ভিত্তিই নেই।
অভিজিৎ বলেন, জাতীয় পতাকা তোলার জন্যই যন্তর মন্তরে গিয়েছিলেন তাঁরা। জাতীয় পতাকা তোলা কোনো অপরাধ হতে পারে না।
সিজেপি বলেছে, সতর্কতামূলক পদক্ষেপের দোহাই দিয়ে যেভাবে নেতাদের আটক করা হচ্ছে, তা আইনি প্রক্রিয়ার প্রহসন ও প্রশাসনিক অতিসক্রিয়তা ছাড়া আর কিছু নয়। এভাবে সরকার গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করছে।
আশুতোষ ও সৌরভকে ১৩ অক্টোবর যন্তর মন্তর থেকে আটক করা হয়। সেদিন সকালে তাঁরা দুজন ও অন্য নেতা অজিঙ্ক শিন্ডে লোহার ফটক টপকে যন্তর মন্তরে ঢুকেছিলেন। সঙ্গে ছিলেন আরও ১০–১২ জন কর্মী–সমর্থক। সারা দিন তাঁদের আটকে রেখে পরদিন গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাঁদের পাঁচ দিনের জেল হেফাজত দেন। রোববার ম্যাজিস্ট্রেট জামিনের আবেদন না শুনে তাঁকে হুমকির প্রসঙ্গ তুলেছিলেন।
গতকাল সোমবার কারা হেফাজতের মেয়াদ আরও দুদিন বৃদ্ধির ফলে এখন সিজেপি মহলে সংশয় দেখা গেছে। তাঁদের শঙ্কা, কোনো না কোনো অজুহাতে ওই নেতাদের আটকে রাখাই পুলিশের লক্ষ্য।
আশুতোষ ও সৌরভের জেল হেফাজতের কড়া নিন্দা জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ মঙ্গলবার ‘এক্স’ হ্যান্ডলে এক পোস্টে তিনি মোদি সরকারের কড়া সমালোচনা করলেন। ওই দুই নেতার মুক্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে ‘রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাস’ চলছে। পুলিশি অত্যাচার মাত্রাছাড়া হয়ে গেছে।
মমতা লিখেছেন, ‘আশুতোষ ও সৌরভের মেয়াদ বৃদ্ধি করার মরিয়া ও সংকীর্ণ মানসিকতা কেন, তা বেশ বুঝতে পারছি। গণতন্ত্রকে আক্রমণের জন্য এটি এক বিপজ্জনক হাতিয়ার।’
মমতা লিখেছেন, ‘জেন–জির ওপর আক্রমণ বন্ধ করুন। আজ যাঁরা মসনদে বসে আছেন, তাঁরা জেনে রাখুন, চিরকাল ক্ষমতায় থাকবেন না।’
মমতা লিখেছেন, ‘কলকাতা, মুম্বাই, দিল্লি, দেশজুড়ে অত্যাচার ও নির্যাতন বেড়ে চলেছে। আমাদের পূর্বসূরিরা ঔপনিবেশিক শাসকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। তখন তাঁদেরও চরম অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছিল। তবু তাঁরা সাহসের সঙ্গে লড়াই করেছিলেন। এখন যা চলছে, তা পুরোপুরি রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাস। এ ধরনের জবরদস্তি আচরণ বেশি দিন টেকে না। আদর্শবাদী জনতা রুখে দাঁড়াবেন। অহংকারী অন্ধ রাজনীতিকদের চোখ খুলবে। মানুষ জয়ী হবে। গণতন্ত্রের খুনিদের পতন ঘটবে।’
সরকারের উদ্দেশে মমতা লিখেছেন, ‘আপনারা যদি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, তবে অবিলম্বে আশুতোষ ও সৌরভকে মুক্তি দিন।’