পুলিশের হেফাজতে ভারতীয় প্রযুক্তিকর্মী অবিনাশ নার্নে
পুলিশের হেফাজতে ভারতীয় প্রযুক্তিকর্মী অবিনাশ নার্নে

যুক্তরাষ্ট্রে স্ত্রীকে হত্যা করে ভারতে প্রেমিকার কাছে ছবি পাঠালেন স্বামী

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে এক ভারতীয় প্রযুক্তিকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাসা থেকে তাঁর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধারের প্রায় ৯ মাস পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলো।

ওয়াশিংটন রাজ্যের বেলভিউ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অবিনাশ নার্নে (৩০) নামের ওই সফটওয়্যার প্রকৌশলী গত বছরের অক্টোবরে তাঁর স্ত্রী রাজিথা সাব্বিনেনিকে (২৭) শ্বাস রোধ করে হত্যা করেন। পরে তিনি ঘটনাটিকে ভিন্ন রূপ দিতে নাটক সাজান।

২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর নার্নে পুলিশকে ফোন করে জানান, তাঁর স্ত্রী বাথরুমে আটকে আছেন। বাইরে বের হচ্ছেন না। পুলিশ এসে বাথরুমের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকলে মেঝেতে সাব্বিনেনিকে পড়ে থাকতে দেখেন। সেখানেই তাঁর নিথর দেহ পড়ে ছিল।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় নার্নে প্রথমে পুলিশকে বলেছিলেন, ২৭ অক্টোবর তিনি কিছু কেনাকাটার জন্য বাসা থেকে বাইরে গিয়েছিলেন। প্রায় ৪০ মিনিট পর ঘরে ফিরে তিনি সাব্বিনেনিকে বাথরুমে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান।

তবে তদন্তকারী কর্মকর্তারা নার্নে বাইরে থাকার সময় অন্য কাউকে তাঁদের বাসায় ঢুকতে দেখেননি।

পরের দিন কিং কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয় সাব্বিনেনির মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করে। তারা জানায়, শ্বাস রোধের কারণে অক্সিজেনের অভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

তদন্তে আরও জানা গেছে, ভারতে থাকা এক নারীর সঙ্গে নার্নের বহু বছর ধরে ‘গোপন সম্পর্ক’ ছিল। সেই সম্পর্কের মধ্যে থেকেই ২০২৫ সালের ৫ জুন সাব্বিনেনির সঙ্গে নার্নের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, নার্নের সেই প্রেমিকা এমনকি তাঁর বিয়েতেও উপস্থিত ছিলেন।

তবে সাব্বিনেনির সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পরও এই দুই প্রেমিক-প্রেমিকা তাঁদের সম্পর্ক চালিয়ে যান।

ঘটনার দিন গত বছরের ২৭ অক্টোবর নার্নে তাঁর প্রেমিকাকে অন্তত চারবার ফোন করেছিলেন। এর মধ্যে একবার তিনি প্রেমিকাকে ফোন করেছিলেন, ঠিক তার আশপাশের সময়ে তিনি পুলিশকে বলেছিলেন, তিনি বাথরুমের তালা ভাঙার চেষ্টা করছেন।

কর্মকর্তারা বলেন, নার্নে তাঁর স্ত্রীর মরদেহের একটি ছবিও তাঁর প্রেমিকাকে পাঠিয়েছিলেন।

কর্মকর্তারা সাব্বিনেনির ফোন থেকে নার্নেকে পাঠানো কিছু খুদে বার্তাও খুঁজে পেয়েছেন। সেসব খুদে বার্তা সাব্বিনেনি বেশ কয়েকবার অভিযোগ করেছিলেন, নার্নে তাঁর জন্য যে পানীয় তৈরি করে দিতেন, তার স্বাদ খুব ‘তিক্ত’ লাগত।

মৃত্যুর দিনও সাব্বিনেনি তাঁর স্বামীকে পাঠানো খুদে বার্তায় লিখেছিলেন, তাঁর তৈরি করে দেওয়া স্মুদিটির স্বাদ ‘ওষুধ’ এবং ‘কাশির সিরাপের’ মতো লাগছে।

৫ জুলাই নার্নের বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডারের (পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড) অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

কর্মকর্তারা আরও জানান, বর্তমানে নার্নে ৫০ লাখ ডলারের জামিন অযোগ্য শর্তে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।