ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মণিপুর রাজ্যের ইম্ফলে চলমান নিরাপত্তা সংকট ও অঞ্চলটিতে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেন হাজারও মানুষ। ৩১ অক্টোবর ২০২৬। সমাবেশটির আয়োজন করে নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠনের জোট কো-অর্ডিনেটিং কমিটি অন মণিপুর ইন্টেগ্রিটি (কোকোমি)
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মণিপুর রাজ্যের ইম্ফলে চলমান নিরাপত্তা সংকট ও অঞ্চলটিতে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেন হাজারও মানুষ। ৩১ অক্টোবর ২০২৬। সমাবেশটির আয়োজন করে নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠনের জোট কো-অর্ডিনেটিং কমিটি অন মণিপুর ইন্টেগ্রিটি (কোকোমি)

মণিপুরে সহিংসতা বিজেপি সরকারের ব্যর্থতার ফল: কংগ্রেস

ভারতের উত্তর-পূর্বের সীমান্ত রাজ্য মণিপুরে দীর্ঘমেয়াদি সহিংসতার জন্য শাসক দল বিজেপিকে দায়ী করেছে দেশটির বিরোধী দল কংগ্রেস। তারা বলেছে, সরকারের চরম উদাসীনতা, রাজনৈতিক ঔদ্ধত্যের কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজ্য প্রশাসনের চূড়ান্ত গাফিলতিকে দায়ী করে ২০২৭ সালের লোকসভা নির্বাচনে মণিপুরে রাজনৈতিক পালাবদলের ডাক দিয়েছে শীর্ষ কংগ্রেস নেতৃত্ব।

গতকাল সোমবার দিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দপ্তরে মণিপুর প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির শীর্ষ নেতৃত্ব ও দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠক ডাকেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। এই বৈঠকে মণিপুরের বর্তমান সামাজিক-রাজনৈতিক ও রাজনৈতিক নিরাপত্তাব্যবস্থার সার্বিক পর্যালোচনার পাশাপাশি রাজ্যের চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে জোরালো উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সংগঠন সংক্রান্ত সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল, মণিপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত এআইসিসি প্রতিনিধি সপ্তগিরি উলকা, রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ইবোবি সিং এবং পরিষদীয় দলনেতা কে মেঘচন্দ্রসহ অন্য শীর্ষ নেতারা।

এই বৈঠকের পর কংগ্রেস সভাপতি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের ও রাজ্যের শাসক দল বিজেপির চরম রাজনৈতিক ঔদ্ধত্য, উদাসীনতা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণেই সীমান্ত রাজ্য মণিপুর দীর্ঘদিন ধরে এক মারাত্মক দীর্ঘস্থায়ী সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তিনি বলেন, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার চরম অবক্ষয় ঘটলেও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব দায়বদ্ধতা এড়িয়ে পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে দিয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের এই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে স্থায়ী শান্তি, স্থায়িত্ব, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার ফেরাতে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির অপশাসনের অবসান ঘটানোই তাঁদের মূল লক্ষ্য।

একই সুর শোনা গেছে কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপালের বক্তব্যেও। সম্প্রতি দিল্লিতে আয়োজিত বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সুবিশাল সমাবেশের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রামলীলা ময়দানে সাধারণ মানুষের যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, তা মণিপুর ও উত্তরাখণ্ডের মতো বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতে তৈরি হওয়া তীব্র প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়ার এক স্পষ্ট ঝলক মাত্র।

কে সি ভেনুগোপাল দাবি করেন, লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের দুটি আসনেই মণিপুরের মানুষ বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করে তাদের মত জানিয়ে দিয়েছেন এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনেও শাসক দলকে সরাতে জনগণ প্রস্তুত। উত্তরাখণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, একদিকে যেমন প্রাচীন হিন্দু তীর্থস্থানগুলোতে দুর্নীতির ছায়া পড়েছে, অন্যদিকে পরিবেশের তোয়াক্কা না করে পাহাড়ি অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ করপোরেটদের হাতে নির্বিচারে তুলে দেওয়া হচ্ছে।

ইতিমধ্যে মণিপুরের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির নতুন করে অবনতি ঘটেছে। সম্প্রতি কাংপোকপি জেলায় বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে এবং বড় কাঠের গুঁড়ি ও পাথর ফেলে একাধিক রাস্তা অবরুদ্ধ করে তুমুল বিক্ষোভ দেখায়। অন্যদিকে সেনাপতি জেলার পাহাড়ি অঞ্চল থেকে নিখোঁজ হওয়া দুই যুবকের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধারের পর চরম উত্তেজনা তৈরি হয়।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া জাতিগত সংঘর্ষে ৫০ জনেরও বেশি মানুষের নিহত হয়েছে। এ ছাড়া তামেংলং, নোনে, কামজং, উখরুল ও কাংপোকপি জেলায় বহু ঘরবাড়ি পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ইম্ফল উপত্যকার মেইতেই এবং সংলগ্ন পার্বত্য অঞ্চলের কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে সৃষ্ট রক্তক্ষয়ী হিংসায় তিন শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে, ৪৯ জন এখনো নিখোঁজ এবং হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

এই পরিস্থিতিতে বিরোধী দল কংগ্রেস মণিপুরে শান্তি ফিরিয়ে আনতে এবং পুনর্মিলনের বার্তা নিয়ে নির্বাচনের পথে এগোনোর রূপরেখা তৈরি করছে।