দিল্লির ১৫০ বছরের পুরোনো রেসকোর্স মসজিদের ফটক
দিল্লির ১৫০ বছরের পুরোনো রেসকোর্স মসজিদের ফটক

এবার দিল্লির ১৫০ বছরের পুরোনো মসজিদ উচ্ছেদের নোটিশ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে এবার প্রায় দেড় শ বছরের প্রাচীন রেসকোর্স মসজিদের নামে উচ্ছেদের নোটিশ জারি করা হয়েছে। নথিভুক্ত ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি হওয়া সত্ত্বেও এবং পৌরসভার খাতায় ‘ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তি’ হিসেবে উল্লেখ থাকলেও মসজিদটি ‘অবৈধ নির্মাণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে দিল্লির জমি ও উন্নয়ন দপ্তর।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনসংলগ্ন এই এলাকায় বস্তি উচ্ছেদসহ ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবেই এই নোটিশ জারি করা হয়েছে। এর আগেও দিল্লি, উত্তর প্রদেশসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে ‘অবৈধ নির্মাণ’ আখ্যা দিয়ে বেশ কিছু মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এসেছে।

হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী একটি মসজিদের কমিটির কাছে সম্প্রতি উচ্ছেদ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ‘ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ অফিস নোটিশে উল্লেখ করেছে, ঐতিহাসিক এ কাঠামোটি অবৈধভাবে সরকারি জমিতে তৈরি হয়েছিল এবং সম্পূর্ণ অননুমোদিত।

নয়াদিল্লি পৌর পরিষদের সরকারি ওয়েবসাইটে রেসকোর্স মসজিদটিকে ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও প্রাচীন সৌধটির ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নোটিশ অনুযায়ী, মসজিদ কর্তৃপক্ষকে ছয় দিনের মধ্যে প্রাঙ্গণ খালি করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগরবিষয়ক মন্ত্রকের অধীন এই দপ্তর।

কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে মসজিদের বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সংযোগও কেটে দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের সংসদ সদস্য আসাদুদ্দিন ওয়েইসি কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তিনি বলেন, এ মসজিদটি ১৯৭৭ সাল থেকে একটি গেজেটেড ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি হিসেবে স্বীকৃত। দীর্ঘকাল ধরে ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হওয়ার কারণে ওয়াক্‌ফ সংশোধন আইনের অধীনে এই ঐতিহ্যবাহী কাঠামোটি সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য বলেও তিনি যুক্তি তুলে ধরেন।

অন্যদিকে ভারতের সর্ববৃহৎ মুসলিম সংগঠন জামিয়াত উলামায়ে হিন্দের একটি প্রতিনিধিদল গত সোমবার রিজিজুর সঙ্গে দেখা করে মসজিদ এবং সংলগ্ন কবরস্থানটিকে সম্ভাব্য বিপদের হাত থেকে রক্ষা করার অনুরোধ জানিয়েছে। স্মারকলিপিতে তাঁরা সরকারি ঐতিহ্য তালিকায় মসজিদের নাম থাকার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। দ্রুত বিদ্যুৎ ও জলের সংযোগ পুনর্বহাল করার দাবিও জানান তাঁরা।

মুসল্লিরা যাতে কোনো বাধা ছাড়াই মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার অনুরোধ করেছে জামিয়াত উলামায়ে হিন্দ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রিজিজু প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, তিনি এ বিষয়টি সমাধানে সম্ভাব্য সব রকম চেষ্টা করবেন।