ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম পাঁচ মাসে রাজ্যে দুই হাজার ৪৫৬টি ধর্ষণ এবং ৬০০টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। রাজ্য অপরাধ রেকর্ড ব্যুরোর (এসসিআরবি) তথ্যের বরাত দিয়ে গত ৭ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাবেক সদস্য সাকেত গোখলে।
তবে তৃণমূলের এই দাবি নাকচ করেছে বিজেপি। দলটির দাবি, এ তথ্য পুরোনো। আগের অপরাধের তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে।
সাকেত গোখলে দাবি করেন, তথ্য অধিকার আইনে (আরটিআই) আবেদন করে তিনি এসব তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাস থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যে ১৩ হাজার ১১৪টি হত্যাচেষ্টা ও ৩২ হাজার ৩৪১টি গুরুতর আঘাতের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
সাকেত গোখলের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে রাজ্যে ধর্ষণের ঘটনা ছিল ৩৪৯টি। জুনে তা বেড়ে হয় ৩৮৯টি, জুলাইয়ে ৭৮৮টি, আগস্টে ৪৫৯টি এবং সেপ্টেম্বরে ৪৭১টি। এই হিসাবে, রাজ্যে প্রতিদিন গড়ে ১৬টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে খুনের ঘটনা ঘটেছে মে মাসে ১২৫, জুনে ১৩৪, জুলাইয়ে ১৩৩, আগস্টে ১১১টি এবং সেপ্টেম্বরে ৯৭টি।
গত মে মাসে রাজ্যে ধর্ষণের ঘটনা ছিল ৩৪৯টি। জুনে তা বেড়ে হয় ৩৮৯টি, জুলাইয়ে ৭৮৮টি, আগস্টে ৪৫৯টি এবং সেপ্টেম্বরে ৪৭১টি। এই হিসাবে, রাজ্যে প্রতিদিন গড়ে ১৬টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে।
এক্সে অপরাধের এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির দাবি, নির্বাচনী প্রচারে বিজেপি রাজ্যকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, নতুন সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ ও নারীরা চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এ পরিস্থিতিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। দলটির অভিযোগ, প্রকৃত অপরাধের সংখ্যা প্রকাশিত পরিসংখ্যানের চেয়েও বেশি হতে পারে। কারণ, অনেক সময় পুলিশ গুরুতর ধারায় মামলা নথিভুক্ত করতে চায় না। রাজ্যের হিন্দুত্ববাদী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি নেতৃত্বাধীন প্রশাসনকে ব্যর্থ দাবি করে জবাবদিহি চেয়েছে তৃণমূল।
তবে তৃণমূলের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলটির সাধারণ সম্পাদক দেবজিৎ সরকার দাবি করেন, মে মাসের আগে ঘটে যাওয়া অপরাধের ঘটনায় নতুন করে মামলা নথিভুক্ত হওয়ায় এই পরিসংখ্যান তৈরি হয়েছে।
দেবজিৎ সরকার বলেন, আগের সরকারের আমলে সুনির্দিষ্ট তথ্য এনসিআরবির কাছে পৌঁছাত না। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে পুরোনো সব অপরাধের ঘটনায় এফআইআর করার বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দেবজিৎ সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর অতীতে সংঘটিত অপরাধের ঘটনাগুলো সঠিকভাবে নথিভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপিও তৃণমূলের শাসনামলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে তৃণমূল সরকারের আমলে সাজা দেওয়ার হার কম থাকা এবং দলটির নেতা-নেত্রীদের বিভিন্ন বিতর্কিত বক্তব্যের প্রসঙ্গ সামনে এনেছে।