মুম্বাইয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ২০ অক্টোবর ২০২৬
মুম্বাইয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ২০ অক্টোবর ২০২৬

ভারতে জয়শঙ্কর-রুবিও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, গুরুত্ব পেল জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মুম্বাইয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। মঙ্গলবার বৈঠকে ভারত–যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন দুই শীর্ষ কূটনীতিক।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বৈঠকের বিষয়ে মার্কো রুবিও জানান, দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টিতে বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর বৈঠকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, বাণিজ্য এবং উদীয়মান প্রযুক্তির ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা গভীর করার লক্ষ্যে আলোচনা হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর ও ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি উপস্থিত ছিলেন। ২০ অক্টোবর ২০২৬

এদিকে সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি প্রায় ১৩ শতাংশ কমেছে, যা নিয়ে টানা দুই মাস আমদানিতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। তবে এরপরও ভারতের বৃহত্তম জীবাশ্ম জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে মস্কো (সেপ্টেম্বরে যার আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউরো)। বৈশ্বিক পরিসরে রাশিয়ার জ্বালানির শীর্ষ ক্রেতা চীন এবং এরপরই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত।

এর আগে গত জুলাই মাসে ভারত মোট আমদানির প্রায় ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ তেল রাশিয়া থেকে এনে রেকর্ড গড়েছিল, যা বর্তমানে কমে প্রায় ৪৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

রাশিয়া থেকে তেল না কিনতে ওয়াশিংটনের নানামুখী চাপ সত্ত্বেও নয়াদিল্লি জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রেখেছে। মূলত অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রক্রিয়াজাত তেল রপ্তানি সচল রাখতেই এই সিদ্ধান্ত ধরে রেখেছে ভারতীয় শোধনাগারগুলো।

ভারতীয় বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মস্কোবান্ধব অবস্থান সত্ত্বেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরের পর তেল আমদানিতে ভারতের রুশনির্ভরতা কতটা কমবে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

ভারত–যুক্তরাষ্ট্র–আমিরাত ত্রিপক্ষীয় বৈঠক

মুম্বাইয়ে মঙ্গলবার ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে ক্যামেরাবন্দী হন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও (বাঁয়ে) এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। ২০ অক্টোবর ২০২৬

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি জয়শঙ্কর ও রুবিও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকেও অংশ নেন।

এক্স বার্তায় বৈঠকের বিষয়টি জানিয়ে জয়শঙ্কর লিখেছেন, বৈঠকে ‘জ্বালানি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সমসাময়িক ঘটনাবলি নিয়ে অত্যন্ত কার্যকর মতবিনিময়’ হয়েছে।

অন্যদিকে মার্কো রুবিও সন্তোষ প্রকাশ করে এক্সে লিখেছেন, ‘আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করতে পেরে এবং আমাদের যৌথ অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারগুলোকে এগিয়ে নিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বি জায়েদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে দারুণ লেগেছে।’

মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর বলেন, এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠকটি জ্বালানি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষেত্রে তিন দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে বাস্তব ফলাফলে রূপ দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়ে ভারত কোনো নতুন পরিকল্পনা করছে কি না, এই বৈঠক সেই সম্ভাবনার দিকেও ইঙ্গিত করে।