চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

ভারতের সীমান্তে চীনের অবকাঠামো নির্মাণ ঘিরে উত্তেজনা

ভারতের সীমান্তে চীনের অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে দিল্লির সঙ্গে আবার উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ওই এলাকা চীনের কাছে আকসাই চীন ও ভারতের কাছে শাকসগাম উপত্যকা হিসেবে পরিচিত। চীন ওই এলাকা আবারও নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করেছে। চীন বলেছে, এই এলাকায় তাদের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ নিয়ে কারও প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, কয়েক দিন আগে এই উপত্যকায় চীনের নির্মাণকাজের সমালোচনা করে নয়াদিল্লি দাবি করেছিল, এটি ভারতের এলাকা এবং নিজের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার দিল্লির রয়েছে।

উঁচু উচ্চতার ওই এলাকা চীনের জিনজিয়াং প্রদেশ এবং সিয়াচেন বা আকসাই চীন এলাকার কাছে অবস্থিত।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, ‘এই অঞ্চল চীনের অংশ। নিজেদের এলাকায় অবকাঠামো তৈরি করার পূর্ণ অধিকার আমাদের রয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, ১৯৬০–এর দশকেই পাকিস্তান ও চীন সীমান্ত নির্ধারণ করেছে। এটি তাদের সার্বভৌম অধিকার।

তবে ভারত ওই চুক্তি কখনো মেনে নেয়নি। ভারতের দাবি, ১৯৬৩ সালের চুক্তিতে বলা হয়েছিল, ভারত–পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হলে তবেই চীনের সঙ্গে সীমানা নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তি হবে।

এ ছাড়া চীন–পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) নিয়ে ভারতের আপত্তির জবাবে চীন জানিয়েছে, এটি কেবলই একটি অর্থনৈতিক প্রকল্প।

ভারতের অবস্থান বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ‘শাকসগাম (আকসাই চীন) উপত্যকা ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা ১৯৬৩ সালের অবৈধ সীমান্ত চুক্তি কখনোই মেনে নিইনি।’

ভারতের আপত্তি সত্ত্বেও চীন শাকসগাম (আকসাই চীন) দিয়ে সব ঋতুতে চলাচলের উপযোগী সড়ক নির্মাণ করছে। এই সড়ক সিয়াচেন হিমবাহ থেকে মাত্র ৪৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ধারণা করা হচ্ছে, লাদাখ ও কাশ্মীরে ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে নিজেদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে পাকিস্তান ও চীন মিলে এই নতুন সীমান্ত পথগুলো তৈরি করছে।