ভারত ও চীন

লাদাখ থেকে সেনা সরানো শেষ হবে সোমবারের মধ্যে

গালওয়ান ভ্যালি নিয়ে চীন ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে
 ছবি: এএফপি

লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার (এলএসি) গোগরা-হট স্প্রিং এলাকা থেকে ভারত ও চীনের সেনা সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া আগামী সোমবারের মধ্যে শেষ হবে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, সেনা অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে।

শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী বলেন, দুই পক্ষ সংঘর্ষ হওয়ার আগের অবস্থানে সেনাদের ফিরে নেবে সোমবারের মধ্যে। দুই পক্ষ যেসব অস্থায়ী ছাউনি বা কাঠামো তৈরি করেছে তা ভেঙে দেওয়া হবে। সেই কাজ আলোচনামাফিক হয়েছে কি না, তা দুই পক্ষই যাচাই করবে।

অরিন্দম বাগচী আরও বলেন, দুই বছর আগে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আগে যার যেখানে অবস্থান ছিল, গোগরা-হট স্প্রিং অঞ্চলের সেখানে তারা চলে যাবে। ২০২০ সালের জুন মাসে এলএসির গলওয়ান এলাকায় ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। তাতে ভারতের ২০ জন সেনা মারা যান। চীনের হতাহত সেনার সংখ্যা ছিল আনুমানিক ৪০।

এই সমঝোতা এমন এক সময় হলো, যখন উজবেকিস্তানে সাংহাই কো–অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যোগ দেওয়া নিয়ে জোর প্রস্তুতি চলছে। আগামী সপ্তাহে সেই বৈঠকে মোদি যোগ দিলে সম্মেলনের আসরে তাঁর সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বৈঠক হতে পারে। ওই বৈঠক নিয়ে জল্পনা প্রবল। তার আগে গোগরা-হট স্প্রিংয়ের প্যাট্রলিং পয়েন্ট ১৫ (পিপি-১৫) থেকে দুই দেশের সেনাবাহিনীর পিছিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত যথেষ্ট অর্থবহ।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিবৃতিতে বলেছেন, গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটা থেকে সেনা অপসারণ শুরু হয়েছে যা ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে (সোমবার) শেষ হবে।

গত দুই বছর ধরে এলএসির উত্তেজনা কমাতে দুই দেশের সেনাপর্যায়ে মোট ১৬টি বৈঠক হয়েছে। গত ১৭ জুলাই চুসুল মোল্ডো সেনা ছাউনিতে ১৬তম বৈঠকে গোগরা-হটস্প্রিং এলাকা মুক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই থেকে দুই পক্ষই নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রেখে সিদ্ধান্ত রূপায়ণে সচেষ্ট থেকেছে। গোগরা-হট স্প্রিংয়ের পিপি-১৫ এলাকা সোমবারের মধ্যে সমন্বয়ের ভিত্তিতে পরিকল্পিতভাবে অবমুক্ত হলে বাকি থাকবে ডেপসাং উপত্যকার মীমাংসা। দুই দেশ বকেয়া সমস্যা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। ১৬তম বৈঠকে ঠিক হয়েছে, দুই পক্ষই সিদ্ধান্ত মেনে চলবে কঠোরভাবে। এলএসিতে কেউ একতরফাভাবে স্থিতাবস্থার পরিবর্তন ঘটাবে না।

উত্তর লাদাখের ডেপসাং উপত্যকায় দৌলত বেগ ওল্ডিতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর ঘাঁটি রয়েছে। সেখানে এলএসি থেকে দেড় কিলোমিটার ঢুকে ঘাঁটি গেড়ে রয়েছে চীনা ফৌজ। এ কারণে ওই অঞ্চলে অশান্তির একটা চোরা স্রোত বইছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর একাধিকবার বলেছেন, ভারত-চীন সম্পর্ক স্বাভাবিক নয়। সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে গেলে সীমান্ত সমস্যার সমাধান জরুরি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে শুক্রবার বলা হয়েছে, এলএসি বরাবর বাকি যে অংশে এখনো মতানৈক্য রয়েছে আলোচনার মধ্য দিয়ে তার মীমাংসা করা হবে। ভারত ও চীনের সীমান্তে শান্তি ও সুস্থিতি বজায় রাখা হবে।