বীরভূমের তারাপীঠে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচতলা আবাসিক হোটেল ‘বিদেশিনী’। আগুন লাগার পর ভবনের সামনে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের উদ্ধার তৎপরতা। পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। ১৭ আগস্ট ২০২৬
বীরভূমের তারাপীঠে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচতলা আবাসিক হোটেল ‘বিদেশিনী’। আগুন লাগার পর ভবনের সামনে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের উদ্ধার তৎপরতা। পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। ১৭ আগস্ট ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে আবাসিক হোটেলে আগুনে নিহত বেড়ে ৯, বন্ধ করা হলো ১৫ হোটেল

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু তীর্থক্ষেত্র বীরভূমের তারাপীঠে মন্দির–সংলগ্ন একটি আবাসিক হোটেলে সোমবার ভোরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ হয়েছে। আহত অনেকে রামপুরহাটের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে মঙ্গলবার তারাপীঠে এক প্রশাসনিক নির্দেশে ১৫টি আবাসিক হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এসব হোটেলে অগ্নিনির্বাপণ বিধি না মানাসহ নানাবিধ অনিয়ম পাওয়া গেছে।

আগুনের ঘটনায় ‘বিদেশিনী’ হোটেলের মালিকের ছেলেকে সোমবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরদিন মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে হোটেলের মালিক প্রবীর কুমার পালকেও।

পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে, আগুনের ঘটনায় নিহত পুণ্যার্থীর সংখ্যা বেড়ে ৯ হয়েছে। তাঁদের পাঁচজনের বাড়ি মেঘালয় রাজ্যে আর চারজনের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায়। এ ঘটনায় ৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের অনেকের অবস্থা সংকটাপন্ন।

পুলিশ বলেছে, বন্ধ করে দেওয়া ১৫টি আবাসিক হোটেলকে এর আগে নোটিশ দেওয়া হলেও সেগুলো অগ্নিনির্বাপণ–ব্যবস্থা গ্রহণ করতে গড়িমসি করে। তাই নানা অনিয়মে এই ১৫টি আবাসিক হোটেল বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের শিকার হোটেলের পাশের পুকুরে মঙ্গলবার তল্লাশি চালিয়েছে সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা। অগ্নিকাণ্ডের সময় জীবন বাঁচাতে কেউ কেউ হোটেলের ব্যালকনি থেকে পুকুরে ঝাঁপ দেয় বলে অভিযোগ উঠেছিল।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পবিত্র শ্রাবণ মাস উপলক্ষে শিবপূজা ও তারাপীঠের মা তারা মন্দিরে পূজা দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য পুণ্যার্থী সেখানে আসেন। ভক্তদের অনেকেই স্থানীয় বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করছিলেন। ভোর চারটার দিকে পাঁচতলা ওই হোটেলে হঠাৎ চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই ধোঁয়া ও আগুনে পুরো ভবন আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।

হোটেলের সামনের অংশে থাকা রেস্তোরাঁয় আগুন ছড়িয়ে পড়ায় সম্মুখভাগ দিয়ে কেউ বের হতে পারেননি। এ ছাড়া হোটেলের পেছনের জরুরি বহির্গমন ফটকটি (ইমার্জেন্সি গেট) তালাবদ্ধ ছিল। ফলে ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে অনেকের মৃত্যু হয়।

আগুন লাগার কারণ নির্ণয়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সিভিল ডিফেন্স (দমকল) কর্তৃপক্ষ।