
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারকে কেন্দ্র করে আজ বৃহস্পতিবার সরগরম ছিল পুরো রাজ্য। একদিকে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে বিজেপির শীর্ষ নেতা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একাধিক জনসভা ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে ওঠে। এরই মধ্যে আরজি কর হাসপাতালে নিহত নারী চিকিৎসকের (অভয়া) মা রত্না দেবনাথ বিজেপির প্রার্থী হিসেবে আজ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর দ্বিতীয় দফায় পশ্চিমবঙ্গে এসে আজ তিনটি জনসভা করেন নরেন্দ্র মোদি। পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া, পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল এবং বীরভূমের সিউড়িতে আয়োজিত এসব সভায় তিনি তৃণমূল সরকারের কড়া সমালোচনা করেন।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে হলদিয়ায় পৌঁছাতে মোদির দুই ঘণ্টা দেরি হয়। সেখানে তিনি বলেন, ‘বাংলায় পরিবর্তনের ঝড় শুরু হয়েছে। এই ঝড়ে তৃণমূল খড়কুটোর মতো উড়ে যাবে। এবার এই রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার (কেন্দ্রে ও রাজ্যে একই দল) গঠিত হবে।’ হলদিয়ার শিল্প খাতে ‘সিন্ডিকেট’ ও ‘তোলাবাজি’র রাজত্ব চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাজ হারিয়ে মানুষ অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এসব বন্ধ করে শিল্পায়ন শুরু করবে।
অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও সরব হন মোদি। তিনি বলেন, ‘ভোটব্যাংক রক্ষার জন্য তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের ঠাঁই দিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে কারখানা বানাচ্ছে।’ নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে এবারও উন্নয়নের বার্তা যাবে।
অন্যদিকে আজ উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁ, পলতা, পানিহাটি ও বাগুআটিতে চারটি জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মিনাখাঁয় তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা থেকে রাজ্যের ৯০ লাখ মানুষের নাম বাদ দিয়েছে। তবে এতে তৃণমূলের জয় আটকানো যাবে না বলে দাবি করেন তিনি।
মমতা বলেন, ‘বিজেপি বাংলা দখল করতে চায়, মানুষের কথা বলা এবং মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করতে চায়। তারা সংবিধান ধ্বংস করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো শেষ করতে চাইছে।’ এ সময় তিনি সুন্দরবন অঞ্চলকে নিয়ে ‘সুন্দরবন জেলা’ নামে একটি নতুন জেলা গঠনের ঘোষণাও দেন।
আজকের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল আরজি করের ঘটনার সেই নারী চিকিৎসকের মায়ের মনোনয়ন জমা দেওয়া। রত্না দেবনাথ উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি আসন থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন। দুপুরে বারাকপুর মহকুমা প্রশাসকের দপ্তরে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় নেত্রী স্মৃতি ইরানি ও ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর রত্না দেবনাথ বলেন, ‘৯ তারিখ আমার জীবনের ঐতিহাসিক এক দিন। এই তারিখেই আমার মেয়ের জন্ম, এই তারিখেই তার মৃত্যু আর আজ এই ৯ তারিখেই আমি তার হত্যার বিচারের দাবিতে মনোনয়নপত্র জমা দিলাম।’ তিনি জানান, সাধারণ মানুষ তার পাশে আছেন এবং মেয়ের বিচারের দাবিতেই তিনি নির্বাচনে নেমেছেন।’