ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। একটি গেজেট নোটিফিকেশনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রবি বলেছেন, ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ নম্বর ধারার ২(বি) উপধারা ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা তিনি ভেঙে দিলেন।
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল রবি বলেছেন, তাঁকে যে ক্ষমতা সংবিধানে দেওয়া হয়েছে, সেই ক্ষমতার অধীনেই তিনি বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন। গেজেট নির্দেশিকাটি প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্য সচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালা।
ভারতের সংবিধানের ১৭৪ নম্বর ধারার অন্তর্গত ২(বি) উপধারা বলছে, ভারতের রাজ্যপালের একটি আইনসভা ভেঙে দেওয়ার অধিকার রয়েছে। আইনসভার অধিবেশন ডাকা বা আইনসভা ভেঙে দেওয়া—দুটিই করার অধিকার সংবিধান রাজ্যপালকে দিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজভবনে গিয়ে ইস্তফা জমা দিতে ৭ মে (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি দেননি। বরং মমতা ৫ মে সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, এই নির্বাচনে তিনি হারেননি। ফলে রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগপত্র রাজ্যপালের হাতে তুলে দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে না।
সেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, তিনি রাস্তার মানুষ এবং তাঁর লড়াইকে তিনি আবার রাস্তাতেই নিয়ে যাবেন। এরপর আজ বৃহস্পতিবার কলকাতায় ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অন্যতম নেতা অখিলেশ যাদব ঘোষণা দিয়েছেন,‘ইন্ডিয়া’ জোট এক হয়ে লড়াই করবে। এই দুটি ঘটনা পাশাপাশি রাখলে এটা বলা যায়, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাস্তা ও রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠবে।
মমতাকে হারানোয় চন্দ্রনাথ খুন: অভিযোগ শুভেন্দুর
পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, ভবানীপুরে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছেন বলে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী হয়ে কাজ করেছে বলে ‘নিষ্পাপ’ এক তরুণকে খুন করা হলো।
শুভেন্দুর দাবি, তাঁর সচিব রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। কিন্তু তা–ও তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে তাঁর আবেদন, দোষী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে তাদের আইনি পথে ফাঁসিতে ঝোলাতে হবে।
গতকাল বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ায় গুলি করে হত্যা করা হয় শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে। গুলিবিদ্ধ হন গাড়িচালকও। তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চন্দ্রনাথকে মৃত ঘোষণা করা হয়।। গাড়িচালক একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ইতিমধ্যে তদন্তের কাজেও কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলে জানা গেছে। যে মোটরবাইকে চড়ে দুর্বৃত্তরা গুলি চালিয়েছিল, সেটি উদ্ধার করা হয়েছে। একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার পেছনে কে বা কারা আছে, সে সম্পর্কে নির্দিষ্টভাবে পুলিশ এখনো কিছুই জানায়নি।