শুভেন্দু অধিকারী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শুভেন্দু অধিকারী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

অন্নপূর্ণা ভান্ডার নিয়ে মমতা-শুভেন্দুর পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

পশ্চিমবঙ্গে নারীদের আর্থিক সহায়তার প্রকল্প লক্ষ্মীর ভান্ডারের নাম বদলে অন্নপূর্ণা ভান্ডার করার পর তা নিয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নতুন প্রকল্পে মাসে ৩ হাজার রুপি করে দেওয়া হলেও অনেক পুরোনো উপভোক্তার নাম বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মমতা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সরকারের সময় লক্ষ্মীর ভান্ডারে নারীদের মাসে ১ হাজার ৫০০ রুপি করে দেওয়া হতো। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দেয়, ক্ষমতায় এলে এই সহায়তা বাড়িয়ে ৩ হাজার রুপি করা হবে। নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিজেপি লক্ষ্মীর ভান্ডারের নাম বদলে অন্নপূর্ণা ভান্ডার করে এবং নতুন তালিকা অনুযায়ী অর্থ দেওয়া শুরু করে।

মমতা অভিযোগ করেছেন, নতুন তালিকা তৈরির সময় বিপুলসংখ্যক নারী বাদ পড়েছেন এবং ধর্ম-বর্ণ বিবেচনা করে অর্থ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আগের তালিকা অনুযায়ী সব নারীকে অর্থ দেওয়া উচিত।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল সোমবার নবান্নে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অন্নপূর্ণা ভান্ডারে ধর্ম-বর্ণ বিবেচনা করা হয়নি। তাঁর দাবি, এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৪৫ লাখ ৬৪ হাজার ৪৭২ জনকে অর্থ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১৯ লাখ ২০ হাজার সংখ্যালঘু নারী রয়েছেন। যোগ্য সবাইকে পর্যায়ক্রমে এই সহায়তা দেওয়া হবে।

মমতার দাবি, তাঁদের সময়ে ২ কোটি ৪২ লাখ নারী লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধা পেতেন। এখন তাঁদের বড় একটি অংশ বাদ পড়েছেন। অন্যদিকে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, আগের তালিকায় পুরুষ ও ভুয়া উপভোক্তার নাম ছিল। যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত উপভোক্তাদের অর্থ দেওয়া হচ্ছে।

মমতা আন্দোলনে নামার কথা বললে শুভেন্দু তাঁকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘রাস্তায় যাতে বেরোতে না পারেন, তার ব্যবস্থা করব।’ জবাবে মমতা প্রশ্ন তোলেন, তাঁকে কি গৃহবন্দী বা রাজনৈতিকভাবে নিপীড়ন করা হবে?

তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেছেন, প্রকৃত কোনো নারী যেন বাদ না পড়েন এবং কোনো পুরুষ যেন এই প্রকল্পের সুবিধা না পান, তা নিশ্চিত করতে হবে।