
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রথমবারের মতো ভারতে সফর শুরু করেছেন। আজ শনিবার ভোরে তিনি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতায় পৌঁছেছেন।
চার দিনের সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করবেন রুবিও।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের চারটি এলাকা সফর করবেন। এর মধ্যে প্রথম দিনে তিনি কলকাতা সফর করছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রুবিও কলকাতায় প্রয়াত মাদার তেরেসার সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি স্থান পরিদর্শন করবেন। এরপর তিনি নয়াদিল্লি গিয়ে দিনের পরবর্তী সময়ে মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
রুবিওর সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন সম্প্রতি চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের মাত্র এক সপ্তাহ পর রুবিও ভারতে সফর শুরু করেছেন।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট এবং জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই রুবিওর এই সফর হচ্ছে।
ভারত তার মোট জ্বালানি চাহিদার ৮০ শতাংশের বেশি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। ফলে ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের এই দেশটি জ্বালানিসংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি। রান্নার গ্যাস থেকে শুরু করে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য—দৈনন্দিন জীবনের নানা প্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য ভারত ব্যাপকভাবে বিদেশি জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল।
রুবিও ইতিমধ্যেই ভারতের সামনে থাকা এই চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ভারত যে পরিমাণ জ্বালানি কিনতে চাইবে, আমরা তাদের কাছে ততটাই বিক্রি করতে চাই। আর আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি উৎপাদন ও রপ্তানি ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।’
নয়াদিল্লিও যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি আমদানির পরিমাণ বাড়াতে আগ্রহী হতে পারে। এতে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যঘাটতি কিছুটা কমতে পারে, যা দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিরক্ত করে আসছে।
২০২৫ সালে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাণিজ্যঘাটতি ছিল ৫ হাজার ৮২০ কোটি ডলার, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২৭ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।
তবে এটি খুব সহজ সমাধান নয়। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে জ্বালানি পাঠাতে অনেক বেশি দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়। আর এতে খরচও অনেক বেড়ে যায়।