পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ের টয় ট্রেন
পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ের টয় ট্রেন

পাহাড়ের মানুষকে নির্বাচনমুখী করতে দার্জিলিংয়ে চালু হলো ‘ডেমোক্রেসি এক্সপ্রেস ট্রেন’

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ের মানুষকে আরও বেশি করে ভোটমুখী করতে দার্জিলিংয়ের ‘দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে’ (ডিএইচআর) নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। একটি টয় ট্রেনকে সাজিয়ে পাহাড়ে চলার উদ্যোগ নিয়েছে তারা। এ লক্ষ্যে টয় ট্রেনকে নানা পোস্টার-ব্যানার দিয়ে সাজানো হয়েছে। বিতরণ করাও হচ্ছে ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়ে প্রচারপত্র।

দার্জিলিং জেলা প্রশাসন ও ডিএইচআর একযোগে এ উদ্যোগ নিয়েছে। ট্রেনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডেমোক্রেসি এক্সপ্রেস ট্রেন’। এই ট্রেন এখন চলবে দার্জিলিং স্টেশন থেকে বাতাসিয়া লুপ স্টেশন পর্যন্ত।

গতকাল শুক্রবার ‘ডেমোক্রেসি এক্সপ্রেস ট্রেনের’ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন ডিএইচআরের পরিচালক ঋষভ চৌধুরী ও দার্জিলিংয়ের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হরিশঙ্কর পানিকর।

ডেমোক্রেসি এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধন করে কর্মকর্তারা বলেন, মানুষ এবার আসন্ন বিধানসভার নির্বাচন নিয়ে আরও সচেতন হবে। ভোটমুখী হবে। মানুষ এবার ভোট দিতে আরও অনুপ্রাণিত হবে।

পশ্চিমবঙ্গের পাহাড়ি জেলা দার্জিলিংয়ের টয় ট্রেন বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। ন্যারো গেজের এই ট্রেন দার্জিলিংয়ে চালু হয়েছিল ১৮৮১ সালে। ডিএইচআর এই ট্রেন পরিচালনা করে আসছে। ট্রেনটি ছিল বাষ্প ইঞ্জিনের। পরে এই ট্রেনকে অবশ্য ডিজেল ইঞ্জিনে রূপান্তর করা হয়।

পশ্চিমবঙ্গের নিউ জলপাইগুড়ি থেকে এই ট্রেনপথ চালু হয়েছিল একেবারে দার্জিলিংয়ের ঘুম স্টেশন হয়ে দার্জিলিং পর্যন্ত। দূরত্ব ছিল ৮৮ কিলোমিটার। দার্জিলিং যেতে সময় লাগত কমবেশি আট ঘণ্টা। তবু এই ট্রেন ছিল পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রে।

১৯৯৯ সালে দার্জিলিংয়ের এই টয় ট্রেনকে ইউনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ বা বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় ঠাঁই দেয়। এই ছোট্ট ট্রেনে এসি, নন-এসি, চেয়ার কোচের আসন রয়েছে। দুই ফুট চওড়া এই ন্যারো গেজের টয় ট্রেন আজও জনপ্রিয়তায় এতটুকু ম্লান হয়নি।

এবার দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন হতে যাচ্ছে। প্রথম দফায় ২৩ ও দ্বিতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল এই নির্বাচন হবে। দার্জিলিং জেলার বিধানসভা আসনের নির্বাচন প্রথম দফায় হচ্ছে।