কোয়েল মল্লিক
কোয়েল মল্লিক

তৃণমূল ছেড়ে এবার বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভার প্রার্থী কোয়েল মল্লিক

পশ্চিমবঙ্গের শূন্য আসনে আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনে অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে প্রার্থী করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। তিনি কলকাতার প্রখ্যাত অভিনেতা রঞ্জিৎ মল্লিকের মেয়ে। দীর্ঘদিন ধরে রঞ্জিৎ মল্লিকের পরিবার নিজেদের রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্যসভায় পশ্চিমবঙ্গের চারটি শূন্য আসনে তৃণমূল কংগ্রেস চারজনকে প্রার্থী করে। তাঁরা হলেন পুলিশের সাবেক আইজি রাজীব কুমার, সংগীতশিল্পী বাবুল সুপ্রিয়, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী এবং অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। মার্চ মাসের নির্বাচনে এই চার প্রার্থীই জয়ী হন।

গত ৬ এপ্রিল রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন কোয়েল মল্লিক। তবে কোনো অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে। নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর দলে ভাঙন শুরু হয় এবং তৈরি হয় নানা উপদল।

সেই রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখে পড়ে তৃণমূলের রাজ্যসভার তিন সদস্য সুখেন্দু শেখর রায়, প্রকাশ চিক বরাইক এবং সুস্মিতা দেব দল থেকে পদত্যাগ করেন। পরে তাঁরা তিনজনই বিজেপির টিকিটে আবার রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন।

ওই সময় কোয়েল মল্লিক কিছুটা দোটানায় ছিলেন। অবশেষে গত ১৬ জুলাই তিনি দিল্লিতে গিয়ে উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণনের সঙ্গে দেখা করে রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন। এরপর দিল্লিতে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। তখন থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনা শুরু হয় যে কোয়েল মল্লিকও বিজেপির পথেই হাঁটবেন। তখন সরাসরি যোগ না দিলেও সবার ধারণা ছিল, তিনি দ্রুতই বিজেপিতে যোগ দেবেন।

আজ সেই জল্পনার অবসান হলো। বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের শূন্য আসনে কোয়েল মল্লিককে প্রার্থী করা হয়েছে। ১৬ অক্টোবর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন ধার্য করা হয়েছে ৬ অক্টোবর।

এর মধ্য দিয়ে তৃণমূল ছেড়ে শেষ পর্যন্ত বিজেপিতেই ঠাঁই নিলেন কোয়েল মল্লিক। এদিকে এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূল নেতা, বিধায়ক ও দলের রাজ্য মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। কোয়েল মল্লিককে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। কুণাল ঘোষ মন্তব্য করেন, তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভালোবেসে কোয়েলকে ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সদস্য করেছিলেন।