ভারতের প্রধানমন্ত্রী গত বছরের ২১ জুন বিশাখাপট্টনমে যোগব্যায়ামে অংশ নেন। এবার তিনি ২১ জুন রোববার কলকাতায় যোগব্যায়ামে অংশ নেবেন। সে জন্য যোগ দিবসের মোদির অনুষ্ঠানে রাজ্যের কর্মচারীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করে রাজ্য সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে। পরে আদালতের নির্দেশে সেই নির্দেশনা প্রত্যাহার করা হয়
ভারতের প্রধানমন্ত্রী গত বছরের ২১ জুন বিশাখাপট্টনমে যোগব্যায়ামে অংশ নেন। এবার তিনি ২১ জুন রোববার কলকাতায় যোগব্যায়ামে অংশ নেবেন। সে জন্য যোগ দিবসের মোদির অনুষ্ঠানে রাজ্যের কর্মচারীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করে রাজ্য সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে। পরে আদালতের নির্দেশে সেই নির্দেশনা প্রত্যাহার করা হয়

মোদির যোগব্যায়ামের অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের উপস্থিতি বাধ্যমূলক নয়, কেন বললেন হাইকোর্ট

কলকাতার রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে আগামী রোববার আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মচারীদের উপস্থিত থাকতে হবে বলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল। বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যায় সরকারি কর্মচারীদের একটি সংগঠন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট শুক্রবার জানিয়েছেন, সরকারি কর্মচারীদের যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক নয়।

ভারতের প্রাচীন যোগব্যায়ামকে দেশের ভেতরে ও বাইরে জনপ্রিয় করতে ক্ষমতায় আসার পরেই বড় ভূমিকা নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগামী রোববার (২১ জুন) বিশ্ব যোগব্যায়াম দিবস। প্রতিবারই এই দিনে প্রকাশ্যে যোগ চর্চা করেন মোদি। ভারতের প্রচারমাধ্যম বড় করে তা প্রচার করে।

পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদী বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর এবার কলকাতার প্রধান সড়ক রেড রোড সাত দিন বন্ধ করে হাজার হাজার মানুষকে নিয়ে যোগব্যায়ামের পরিকল্পনা করেছিল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। জলে ও স্থলে দুই জায়গাতেই যোগব্যায়ামের বিশাল পরিকল্পনা নিয়েছিল সরকার। এ কারণেই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বলা হয়েছিল।

বিজ্ঞপ্তিটি চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যায় বামফ্রন্টের সরকারি কর্মচারী সমিতি। আবেদনকারীদের পক্ষে উপস্থিত প্রবীণ আইনজীবী সিপিআইএম দলের সাবেক সংসদ সদস্য বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য যুক্তি দেন, যোগব্যায়ামে অংশগ্রহণের জন্য সরকার নির্দেশ দিতে পারে না।

বিকাশরঞ্জন বলেন, ‘আমি যা করতে পছন্দ করি না, সরকার আমাকে তা করার নির্দেশ দিতে পারে না। এটি ঐচ্ছিক হওয়া উচিত।’

আদালত যখন মন্তব্য করেন, যোগব্যায়াম যেকোনো জায়গায় করা যেতে পারে।। তখন প্রবীণ আইনজীবী উত্তর দেন, ‘আমি মোটেও এটি করতে চাই না।’

রাজ্য সরকারের পক্ষে উপস্থিত হয়ে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতকে বলেন, এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কর্মচারীদের কেবল অনুষ্ঠানে অংশ নিতে উৎসাহিত করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল রেড রোডের যোগব্যায়াম অনুষ্ঠানে বৃহত্তম অংশগ্রহণ করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস গড়া।

বিল্বদল বলেন, বিজ্ঞপ্তিটি কেবলই একটি আবেদন ছিল এবং যাঁরা অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

রাজ্য সরকারের এই বক্তব্য গ্রহণ করে হাইকোর্ট বিষয়টির নিষ্পত্তি করেন। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, সরকারি নির্দেশটি যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য কর্মচারীদের প্রতি একটি সাধারণ আবেদন মাত্র, এটি বাধ্যতামূলক নয়। ব্যক্তিগত কারণে কেউ উপস্থিত হতে না পারলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কথা ভাবা হয়নি।

আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের এখন যোগব্যায়ামের অনুষ্ঠানে না গেলেও চলবে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টিকে বিজেপির জন্য একটা বড় ধাক্কা বলে অনেকে উল্লেখ করেছেন।