বীরভূমের তারাপীঠে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচতলা আবাসিক হোটেল ‘বিদেশিনী’। আগুন লাগার পর ভবনের সামনে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের উদ্ধার তৎপরতা। পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। ১৭ আগস্ট ২০২৬
বীরভূমের তারাপীঠে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচতলা আবাসিক হোটেল ‘বিদেশিনী’। আগুন লাগার পর ভবনের সামনে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের উদ্ধার তৎপরতা। পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। ১৭ আগস্ট ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ আগুন, ৮ পুণ্যার্থীর মৃত্যু

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বিখ্যাত হিন্দু তীর্থক্ষেত্র তারাপীঠ মন্দিরসংলগ্ন একটি পাঁচতলা আবাসিক হোটেলে সোমবার ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত আটজন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন বহু মানুষ। অগ্নিকাণ্ডকবলিত হোটেলটি থেকে ৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।

উদ্ধারকাজে নিয়োজিত ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধক বামাক্ষ্যাপার সাধনার পুণ্যভূমি তারাপীঠ মন্দির ও স্থানীয় তারাপীঠ থানার খুব কাছেই হোটেলটির অবস্থান। ভোরবেলা আগুন লাগার পর ‘বিদেশিনী’ নামের ওই আবাসিক হোটেল থেকে ৪৩ জন পুণ্যার্থীকে জীবিত উদ্ধার করে দ্রুত রামপুরহাটের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত আটজনের মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি ভারতের মেঘালয় রাজ্যে এবং বাকি তিনজন পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দা।

হোটেলটিতে অগ্নিকাণ্ডের পর হতাহতদের উদ্ধারে কাজ করছেন পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। ভবনের নিচে একটি মরদেহ ও পাশে অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। ১৭ আগস্ট ২০২৬

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পবিত্র শ্রাবণ মাস উপলক্ষে শিবপূজা ও তারাপীঠের মা তারা মন্দিরে পূজা দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য পুণ্যার্থী সেখানে আসেন। ভক্তদের অনেকেই স্থানীয় বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করছিলেন। ভোর চারটার দিকে পাঁচতলা ওই হোটেলে হঠাৎ চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই ধোঁয়া ও আগুনে পুরো ভবন আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।

হোটেলের সামনের অংশে থাকা রেস্তোরাঁয় আগুন ছড়িয়ে পড়ায় সম্মুখভাগ দিয়ে কেউ বের হতে পারেননি। এ ছাড়া হোটেলের পেছনের জরুরি বহির্গমন ফটকটি (ইমার্জেন্সি গেট) তালাবদ্ধ ছিল। ফলে ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে অনেকের মৃত্যু হয়। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে বহু পুণ্যার্থী হোটেলের ব্যালকনি থেকে পাশের গাছ বেয়ে এবং নিচে লাফ দিয়ে জীবন রক্ষা করেন।

দুর্ঘটনার সময় হোটেলের অগ্নিনির্বাপক সতর্কবার্তা (ফায়ার অ্যালার্ম) বাজেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। হোটেলটি অগ্নিনির্বাপণবিধি মেনে নির্মিত হয়েছিল কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে রাজ্যের ফায়ার সার্ভিস একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।