দিল্লিতে নারী প্রতিবাদকারী ও সাংবাদিকদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। ৪ অক্টোবর ২০২৬, নয়াদিল্লি
দিল্লিতে নারী প্রতিবাদকারী ও সাংবাদিকদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। ৪ অক্টোবর ২০২৬, নয়াদিল্লি

নারী সাংবাদিকের হেনস্তাকারী পুলিশ কর্তাকে পদোন্নতি, প্রতিবাদের পর স্থগিত রাখল দিল্লি সরকার

নারী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ করা হয়েছিল দিল্লি পুলিশের যে আধিকারিকের বিরুদ্ধে, তাঁর বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা, বরং পদোন্নতি দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। যদিও দিল্লি সরকার সেই পদোন্নতির নির্দেশ আপাতত স্থগিত রেখেছে। এই ঘটনা বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে বিরোধীরা ২ অক্টোবর থেকে লাগাতার বিক্ষোভ করছে। প্রতিদিনই যন্তর মন্তর অভিমুখে মিছিল করে যাওয়ার চেষ্টা করছে বিরোধীরা। তা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিও হচ্ছে।

গত শনিবার বিক্ষোভের খবর সংগ্রহে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া তিন নারী সাংবাদিক কয়েকজন পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তুলেছেন। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের অন্যতম হলেন দিল্লির পুলিশের সহকারী (অ্যাসিস্ট্যান্ট) কমিশনার (এসিপি) বিবেক ভগত।

গত সোমবার দিল্লি পুলিশের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আরও ১১ জনের সঙ্গে বিবেকেরও পদোন্নতি হয়েছে। সহকারী কমিশনার পদ থেকে তিনি হচ্ছেন ডেপুটি কমিশনার (ডিসি)।

ওই তিন নারী সাংবাদিক অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দাখিলের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পুলিশ তাঁদের জানায়, অভিযোগের সত্যতা অপরাধ শাখা তদন্ত করে দেখছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ শাখা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে আগে তদন্ত করবে। তারপর এফআইআরের প্রশ্ন। যদিও আইন বলে, নারীদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ আসামাত্রই এফআইআর করা বাধ্যতামূলক। এই পরিস্থিতিতে বিবেক ভগতের পদোন্নতি নানা প্রশ্ন তুলেছে।

সোমবার গভীর রাতে (মঙ্গলবার ভোরে) দিল্লি সরকারের তরফ থেকে ‘এক্স’ মারফত এক বার্তা দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়, বিবেক ভগতের পদোন্নতির নির্দেশটি আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে।

সরকারি বার্তা অনুযায়ী, ১২ জন পুলিশ কর্তার পদোন্নতির সিদ্ধান্তটি বিক্ষোভের ঘটনার অনেক আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর নেওয়া হয়েছিল। ৫ অক্টোবর সেই নির্দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয়। কিন্তু বিবেক ভগত সেই পদোন্নতি গ্রহণে রাজি হননি।

নিজের ইচ্ছার কথা জানিয়ে ভগত কর্তৃপক্ষকে জানান, তাঁর বিরুদ্ধে নারী সাংবাদিকদের যৌন হেনস্তার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার নিষ্পত্তি হওয়ার আগে তিনি পদোন্নয়নে রাজি নন। তাঁর ইচ্ছানুসারে তাঁকে বাদ দিয়ে বাকিদের পদোন্নতির বিষয়টি নতুনভাবে জানানো হবে।

গত সোমবার এই পদোন্নতির সংবাদ পাওয়ার পর বিক্ষোভকারীদের মধ্যে চাঞ্চল্য দেখা যায়। যে নারীরা থানার সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন, তাঁদের সঙ্গে পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ আনা এক নারী সাংবাদিককেও আটক করা হয়। পরে অবশ্য তাঁদের মুক্তিও দেওয়া হয়েছে।

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পক্ষে পুলিশের এই আচরণের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। সিজেপি নেতা সৌরভ দাসের অভিযোগ, আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে অভিযোগকারী নারী সাংবাদিকেরা পুলিশের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও দিল্লি পুলিশ তাঁদের এড়িয়ে যাচ্ছে।

সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাতকে সঙ্গে নিয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় বিবেক ভগতের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে যান সৌরভ। অভিযোগ, তারপরও সেই এফআইআর দাখিল করা হয়নি। সিজেপির অভিযোগ, দিল্লি পুলিশ তাঁদের বাঁচাতে চাইছে।

শুধু সৌরভই নন, সিজেপি নেত্রী রত্না সিংও পুলিশি আচরণের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, পুলিশ তো এফআইআর নিচ্ছে না, উল্টো অভিযোগকারী নারীদের বিরুদ্ধে এফআইআর দাখিল করছে। তাঁদের আটক করছে। মুঠোফোন বাজেয়াপ্ত করতে চাইছে। এটা অত্যন্ত বিরক্তিকর। নারীরা থানার বাইরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন। এসিপির বিরুদ্ধে অভিযোগ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। অথচ সেদিকে নজর না দিয়ে পুলিশ অভিযোগকারী নারীদের হয়রানি করছে।

রত্না সিং বলেন, পুলিশ বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের হেনস্তা করার যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা নাকি ভিত্তিহীন। অসত্য।

সিজেপি ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, ১০ অক্টোবর তারা যন্তর মন্তর ২.০ আন্দোলন শুরু করবে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের যেখানে বাধা দেবে, সেটাই হয়ে উঠবে যন্তর মন্তর ২.০।

পুলিশি আচরণের নিন্দা করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও। তিনি বলেছেন, দিল্লি পুলিশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে। অতএব নারী সাংবাদিকদের যৌন হেনস্তা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর মুখ খোলা উচিত। তবে সবার আগে উচিত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা।