দুর্ঘটনার বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু
দুর্ঘটনার বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু

অন্ধ্র প্রদেশে স্টিল কারখানায় তপ্ত গলিত লোহা পড়ে ৮ শ্রমিকের মৃত্যু

ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্যের বিশাখাপট্টনম শহরের একটি স্টিল কারখানায় তপ্ত গলিত লোহাভর্তি একটি বিশাল পাত্র উল্টে পড়ে আট শ্রমিক জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। সোমবার বিকেলে ভিজাগ স্টিল প্ল্যান্ট নামে ওই কারখানার স্টিল মেল্টিং শপ (এসএমএস) শাখায় এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও ছয় শ্রমিক গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন।

জানা যায়, গলিত লোহাভর্তি পাত্রটি শব্দ করে মাটিতে আছড়ে পড়ে এবং আশপাশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। নিহত ব্যক্তিদের দেহ এতটা দগ্ধ হয়েছে যে চেনার উপায় নেই। তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করতে শ্রমিক ও কারখানা কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

খবর পেয়ে অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আহত ব্যক্তিরা হলেন রাভুরি মল্লিকার্জুন রাও, পি শ্রীনিবাস রাও, অর্জুন আপ্পা রাও, সত্যানন্দ, হরি বাবু ও পাইদিরাজু।

আহত ব্যক্তিদের সবার শরীরের ৭০ শতাংশের বেশি অংশ পুড়ে গেছে। তাঁদের উদ্ধার করে স্টিল কারখানার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এর আগে ২০১২ সালের ১৪ জুন এই কারখানায় এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে কর্মকর্তা, শ্রমিকসহ ১৬ জন নিহত হয়েছিলেন। এরপর এটি ওই কারখানায় ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল চারটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ১ হাজার ৬০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ফোটানো লোহাভর্তি পাত্রটি মাটিতে পড়ে গেলে সেখানে বিস্ফোরণ ও আগুনের সূত্রপাত হয়।

দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলের আশপাশে অন্তত ২০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। শ্রমিক সংগঠন সিআইটিইউর নেতা কে অযোধ্যা রাম বলেন, সেখানে একটি বিস্ফোরণ ঘটেছিল। এরপর তপ্ত গলিত লোহা ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে শ্রমিকেরা কাজ করছিলেন।

ওই শ্রমিকনেতার অভিযোগ, শুধু এসএমএস শাখা নয়; বরং কারখানার বিভিন্ন বিভাগেই রক্ষণাবেক্ষণের কাজ ঠিকমতো করেনি কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত কারখানা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা জানায়নি। তবে শ্রমিক ইউনিয়ন নেতারা দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে সেখানে পড়ে থাকা মরদেহগুলো গুনে পুলিশকে খবর দিয়েছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্টিল কারখানায় হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ২ লাখ রুপি এবং আহত ব্যক্তিদের ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তারও ঘোষণা দিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে মোদি বলেন, ‘বিশাখাপট্টনম স্টিল কারখানার দুর্ঘটনায় আমি অত্যন্ত মর্মাহত। যাঁরা স্বজন হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি সমবেদনা জানাই। আমি আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে।’