
সাজানো হয়েছে কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড। বিশাল মঞ্চ, হাজারো দর্শকের অনুষ্ঠান দেখার ব্যবস্থা। রয়েছে কড়া নিরাপত্তা। এসব আয়োজন করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে।
আজ শনিবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় (বাংলাদেশ সময় সাড়ে ১১টা) এই মঞ্চেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন শুভেন্দু অধিকারী। শপথ নেবেন নতুন রাজ্য সরকারের মন্ত্রীরা। পশ্চিমবঙ্গে এবারই প্রথম সরকার গড়তে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় হয়েছে। তাই মুখ্যমন্ত্রী পদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তাঁরই একসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও বর্তমানে রাজ্য বিজেপির পরিষদীয় দলের নেতা শুভেন্দু।
আজকের শপথ অনুষ্ঠানে জাঁকজমকের কমতি রাখছে না বিজেপি। এ আয়োজনে উপস্থিত থাকবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির কেন্দ্রীয় সভাপতি নিতিন নবীনসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেই। সেই সঙ্গে ২১টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
আজকের এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সব বিধায়ক বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পোশাক ধুতি–পাঞ্জাবি পরে আসবেন। খাবারেও থাকছে বাঙালিয়ানা। থাকছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবারসহ ঝালমুড়িও।
অনুষ্ঠানে থাকার কথা রয়েছে সংসদ সদস্য ও নতুন বিধায়কদের। কলকাতা ও দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। রাজ্যের সব জেলা থেকে বিজেপির নেতা–কর্মীরা এরই মধ্যে কলকাতায় জড়ো হতে শুরু করেছেন।
ব্রিগেডের শপথ মঞ্চ ঘিরে নিরাপত্তার দায়িত্বে আছে প্রায় চার হাজার পুলিশ। আরও আছে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীসহ কেন্দ্রের বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও।
বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে বিমানবাহিনীর বিশেষ উড়োজাহাজে কলকাতায় পৌঁছাবেন নরেন্দ্র মোদি। এরপর তিনি সোজা অনুষ্ঠানস্থলে যাবেন।
শপথ নেওয়া শেষে নতুন মুখ্যমন্ত্রী যাবেন কলকাতার ঐতিহাসিক রাইটার্স ভবনে, রাজ্য সচিবালয়ের দপ্তরে।
সচিবালয় রাইটার্স ভবনে
রাজ্য বিজেপি আগেই জানিয়ে দিয়েছে, নতুন সরকার পরিচালিত হবে রাইটার্স ভবন থেকে। নবান্নে রাজ্য সচিবালয় থাকবে না। সে জন্য রাইটার্স ভবন নতুন করে সাজানো হয়েছে।
একসময় রাইটার্স ভবন ছিল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সচিবালয়। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যরা এখানে বসতেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বসেছিলেন। পরে মমতা ২০১৩ সালে রাজ্য সচিবালয় রাইটার্স বিল্ডিং থেকে হাওড়ার নবান্নে নিয়ে যান।
এখন শুভেন্দু রাজ্য সরকারের সচিবালয় রাইটার্স ভবনে ফিরিয়ে আনছেন। সেখানে তিনি দোতলায় নয়, তিনতলায় অফিস করবেন। একটি কক্ষ সাজানো হয়েছে।
রাজ্যপালের কাছে শুভেন্দু
শুভেন্দু গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল আর এন রবির সঙ্গে দেখা করেছেন। সঙ্গে ছিলেন বিজেপির রাজ্য পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা।
এ সময় শুভেন্দু বিজেপির ২০৭ জন নবনির্বাচিত বিধায়কের সইসহ নতুন সরকার গড়ার আবেদনপত্র রাজ্যপালের কাছে জমা দেন। রাজ্যপালের অনুমতি সাপেক্ষে শপথ নেবে নতুন রাজ্য সরকার। শপথ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু।
অমিত শাহর বৈঠক
গতকাল কলকাতার নিউ টাউনে কনভেনশন সেন্টার হলে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ী ২০৭ বিধায়ককে নিয়ে পরিষদীয় বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহ। বৈঠকের পর বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানোর ঘোষণা দেন অমিত শাহ।
এ সময় অমিত শাহ বলেন, ‘বিজেপি এবার এই বাংলায় হিংসামুক্ত নির্বাচন দেখিয়ে প্রমাণ করেছে, বিজেপি হিংসা চায় না; শান্তি চায়। সন্ত্রাস চায় না; উন্নয়ন চায়। ভয় নয়; ভয়মুক্ত বাংলা গড়তে চায়।’