নয়া দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে ধরনা থেকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে আটক করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরে
নয়া দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে ধরনা থেকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে আটক করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরে

মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল, প্রিয়াঙ্কা ও অখিলেশ যাদবকে আটক

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নির্যাতনের প্রতিবাদে নয়া দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে ধরনায় বসেছিলেন রাহুল গান্ধীসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা। সেখান থেকে রাহুল, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কংগ্রেসের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতাকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আটক নেতাদের মধ্যে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও রয়েছেন।

রাহুল গান্ধীকে আটক করে কোথায় নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি।

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকে সাড়া দিয়ে গতকাল ভারতের সংসদ অভিমুখে যাত্রা করেছিলেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী। তাঁদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে আজ বিকেলে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা নয়াদিল্লির ৭ লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বসে পড়েন। এই অবস্থানে কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, কে সি বেনুগোপাল, কেরলমের মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন ও কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারও অংশ নেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে ধরনায় কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। আজ মঙ্গলবার বিকেলে নয়া দিল্লির ৭ লোক কল্যাণ মার্গে

কংগ্রেস নেতাদের আচমকা এই পদক্ষেপ নিরাপত্তারক্ষীদের হতচকিত করে ফেলে। তাঁদের ধরনায় বসার খবর জানাজানির পর দলে দলে কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা লোক কল্যাণ মার্গে চলে আসেন। সেখানে তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছাড়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন।

রাহুলদের ধরনায় বসার কিছু সময় পর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংকে সেখানে যেতে দেখা যায়। সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবও ছিলেন। রাহুলের সঙ্গে জিতেন্দ্র সিংকে কিছু সময় কথা বলতে দেখা যায়। তারপর তিনি চলে যান।

এ বিষয়ে কংগ্রেসের সংসদ সদস্য সৈয়দ নাসির হুসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘তাঁরা চাইছিলেন আমরা চলে যাই। আমরা রাজি হইনি। আমরা চাই, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী অবিলম্বে পদত্যাগ করুন।’ তিনি জানান, আরও কংগ্রেস নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা ধরনায় অংশ নিতে আসছেন।

ধরনা শুরু করার পর বিকেল চারটার দিকে রাহুল গান্ধী ‘এক্স’ হ্যান্ডলে এক পোস্টে লেখেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে এসে গেছি। গতকাল ছাত্রদের ওপর পুলিশি অত্যাচারের জবাব চাইতে এসেছি। এই সরকার কোনো দায় নিতে চায় না। তারা সংসদে বিতর্কও চায় না। দেশের যুব সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার অপরাধে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।’

এ ধরনার ঘটনায় হতচকিত দিল্লি পুলিশ এক ঘণ্টার মধ্যে লোক কল্যাণ মার্গে পৌঁছে যায়। সঙ্গে নিয়ে যায় বহু গাড়ি। পুলিশের বড় কর্তারা রাহুল গান্ধীসহ অন্যদের সঙ্গে কথা বলেন। বিজেপির নেতারা অভিযোগ করেন, রাহুলদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিপন্ন হচ্ছে। অভিযোগ খণ্ডন করে কংগ্রেসের নেতারা বলেন, এই ধরনা শান্তিপূর্ণ।

কংগ্রেস নেতা মনিক্কম টেগোর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভবনে যান ও চলে আসেন। কক্ষে যান না। গতকালও সামান্য সময় পর চলে গেছেন। আজও। কোথায় যাব আমরা?’

রাহুল পরে আরও একটি বার্তা দেন। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় ‘এক্স’ হ্যান্ডলে সেই বার্তায় রাহুল ইংরেজি ও হিন্দিতে লিখেন, ‘ছাত্রদের ওপর আক্রমণ প্রতিটি ভারতীয় পরিবারের ওপর হামলা। প্রধানমন্ত্রী মোদি মনে করেন বিনা জবাবদিহিতে, বিনা ক্ষতিতে পার পেয়ে যাবেন। এবার তা হবে না। এবার পার পাবেন না। আমাদের ছাত্ররা সুবিচার পাক, এ কথা যাঁরা বিশ্বাস করেন, সেই প্রত্যেক দেশপ্রেমিক ভারতীয়কে আমি অনুরোধ করব এই ধরনায় শামিল হতে। ভারতীয় ছাত্রদের আওয়াজ বিফলে যাবে না।’

পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সমর্থকদের আয়োজিত বিক্ষোভে পুলিশ এক নারী বিক্ষোভকারীকে আটক করে। আহমেদাবাদ, ভারত, ২০ জুলাই ২০২৬

কংগ্রেসের সংসদ সদস্যরা বলছেন, গতকাল বিষয়টি নিয়ে লোকসভার স্পিকারের কাছে আলোচনার দাবি নিয়ে গিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। স্পিকার কোনো আশ্বাস দিতে পারেননি। তারপরই তিনি এই পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেন। দলের সংসদ সদস্যদের তিনি বলেন, ‘চলুন প্রধানমন্ত্রীর ঘুম ভাঙাতে যাই।’

সরকারি সূত্রের খবর, মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং কংগ্রেস নেতাদের বলেছেন, সরকার আগামীকালই (বুধবার) এই বিষয় নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত। কিন্তু কংগ্রেস নেতারা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে অনড়।

কংগ্রেস ছাড়াও ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিকদেরও ধরনায় অংশ নিতে দেখা যায়। এনসিপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলেকে দেখা যায় প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর পাশে দাঁড়িয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে। বিশিষ্ট আন্দোলনকর্মী যোগেন্দ্র যাদবকেও রাহুলদের পাশে দেখা যায়।

কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর নেতাদের অবস্থান ও স্লোগান চলতে থাকার মধ্যে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাহুল গান্ধীসহ নেতাদের আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।

ভারতের সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সমর্থকদের বিক্ষোভে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ছেন আরএএফের এক সদস্য। নয়াদিল্লি, ভারত, ২০ জুলাই ২০২৬

সাম্প্রতিক নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল সংসদ ভবন ঘেরাওয়ের ডাক দেয় অনলাইনভিত্তিক যুব সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর ও এর আশপাশে গতকাল হাজার হাজার শিক্ষার্থী জড়ো হন। তাঁদের এমন উপস্থিতিতে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীরা রীতিমতো অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন। কয়েক স্তরের ব্যারিকেড, তিন হাজারের মতো নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধের পরও নজিরবিহীন এ ছাত্র বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিশাল এ জনস্রোত পৌঁছে যায় সংসদ ভবনের দোরগোড়াতেও। পরে পুলিশ তাঁদের ওপর কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে ও লাঠিপেটা করে।