ভারতের নির্বাচন কমিশনের এসআইআর কার্যক্রমের আওতায় প্রকাশিত ২০২৬ সালের খসড়া ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ে ভোটারদের সহায়তা করছেন বুথ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা। গত ১৬ আগস্ট ভারতের অমৃতসরের একটি ভোটকেন্দ্রে ছবিটি তোলা
ভারতের নির্বাচন কমিশনের এসআইআর কার্যক্রমের আওতায় প্রকাশিত ২০২৬ সালের খসড়া ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ে ভোটারদের সহায়তা করছেন বুথ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা। গত ১৬ আগস্ট ভারতের অমৃতসরের একটি ভোটকেন্দ্রে ছবিটি তোলা

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা: ৩৭ লাখ আপিল নিষ্পত্তিতে লাগতে পারে ১২ বছর

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া এবং তালিকায় থাকা অন্যদের নাম নিয়ে জমা হওয়া ৩৭ লাখের বেশি আপিল নিষ্পত্তিতে বর্তমান গতিতে ১২ বছরের বেশি সময় লেগে যেতে পারে। সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া এক হলফনামায় এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া প্রায় ২৭ লাখ ১৬ হাজার ভোটারের মধ্যে ২২ লাখ ২১ হাজার ১১৮ জন নাম পুনর্বহালের জন্য ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছেন। এ ছাড়া তালিকায় অন্তর্ভুক্ত অন্যদের নামের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে আরও ১৬ লাখ ১০ হাজার ৩১১টি আবেদন জমা পড়েছে। সব মিলিয়ে মোট আবেদনের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৮ লাখ ৩০ হাজারের বেশি, যার মধ্যে ৩৭ লাখ ৫ হাজার ২৩৫টি আবেদন এখনো বিচারাধীন।

কমিশনের এই পরিসংখ্যানে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আগের দাবির সঙ্গে বাস্তব তথ্যের অমিল দেখা গেছে। গত ১ আগস্ট এক কর্মসূচিতে তিনি দাবি করেছিলেন, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে মাত্র সাত লাখ মানুষ আবেদন করেছেন। বাকি ২০ লাখ মানুষ আবেদন করেননি উল্লেখ করে তাঁদের নাগরিকত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। তবে কমিশনের তথ্য বলছে, শুভেন্দু অধিকারীর দাবির চেয়ে আবেদনকারীর সংখ্যা তিন গুণের বেশি।

কমিশন আদালতকে জানিয়েছে, বর্তমানে মাত্র ১৯টি ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে শুনানি চলছে। এই গতিতে বিচারাধীন ৩৭ লাখ ৫ হাজার ২৩৫টি আপিল নিষ্পত্তিতে ১৪৬ মাস বা ১২ বছরের বেশি সময় লেগে যাবে। শুনানির জট কাটাতে রাজ্যের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে ৪২টি করার প্রস্তাব দিয়েছে কমিশন। পাশাপাশি বিচারকদের দূরবর্তী স্থান থেকেও শুনানি পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

হলফনামায় আরও জানানো হয়, এ পর্যন্ত ১ লাখ ২৬ হাজার ১৯৪টি আপিলের নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯৪৩টি ক্ষেত্রে (প্রায় ৯০.৩ শতাংশ) সিদ্ধান্ত আবেদনকারীদের পক্ষে গেছে এবং তাঁদের নাম তালিকায় ফিরেছে; অন্যদিকে খারিজ হয়েছে ৮ হাজার ৬৪৯টি আবেদন। শুনানির প্রক্রিয়া দ্রুত করতে এখন সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে কমিশন।