পশ্চিমবঙ্গের এবার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীঘায় প্রতিষ্ঠিত জগন্নাথ মন্দিরের নাম থেকে উঠে গেল ‘ধাম’ শব্দটি। মন্দিরটি তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে তৈরি করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের এপ্রিলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন থেকে মমতা এই মন্দিরের নাম ‘জগন্নাথ ধাম’ বলে প্রচার করতে থাকেন। এ সময় সনাতনী হিন্দু সমাজের একাংশ ‘ধাম’ শব্দটির বিরোধিতা করেন।
তাঁদের পক্ষ থেকে দাবি ওঠে, ভারতের হিন্দুদের জন্য তো ভারতের চার প্রান্তে চারটি ধাম রয়েছে। পূর্ব প্রান্তের পুরীতে রয়েছে জগন্নাথ ধাম। এই ধাম নির্মাণ করেছিলেন হিন্দুদের আদি ধর্মগুরু শঙ্করাচার্য।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য সচিবালয় নবান্নে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে দেন আজ থেকে দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের নাম থেকে ‘ধাম’ শব্দটি বাদ দেওয়া হলো। নাম হবে দীঘার জগন্নাথ মন্দির।
সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, ওডিশার মুখ্যমন্ত্রী পুরীর সাংসদ সম্বিতকে পাঠিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সবাই চান পুজোপাঠ হোক। কিন্তু ধাম শব্দ সনাতন সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিতর্ক আগেই ছিল। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাব গ্রহণ করে দীঘার ওই ক্যাম্পাস থেকে ধাম শব্দ সরিয়ে দিচ্ছেন।
নতুন নাম কী হবে, তা-ও জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘পুরো কমপ্লেক্সের নাম হবে শ্রীশ্রী জগন্নাথ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।’
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন দীঘা জগন্নাথ মন্দিরের ট্রাস্টি ও প্রধান পুরোহিত রাধারমণ দাস।