এনডিএর উপরাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী সি পি রাধাকৃষ্ণান
এনডিএর উপরাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী সি পি রাধাকৃষ্ণান

আরএসএসের আদর্শে লালিত রাধাকৃষ্ণান বিজেপির উপরাষ্ট্রপতি প্রার্থী

বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ উপরাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করল মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল সি পি রাধাকৃষ্ণানকে। ৬৮ বছর বয়সী রাধাকৃষ্ণান তামিলনাড়ুর বাসিন্দা। ১৭ বছর বয়স থেকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের (আরএসএস) সঙ্গে তাঁর সংশ্রব। পরবর্তী সময়ে জনসংঘ ও বিজেপি। স্পষ্টতই রাধাকৃষ্ণানকে প্রার্থী করার মধ্য দিয়ে বিজেপি তামিলনাড়ুর মানুষের মন জয় করতে চাইছে। আগামী বছর ওই রাজ্যে বিধানসভার ভোট।

গতকাল রোববার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে এনডিএর বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন বিজেপির সভাপতি জে পি নাড্ডা। আজ সোমবার সন্ধ্যায় বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতাদের বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। সেখানে বিরোধী প্রার্থী নিয়ে আলোচনা হবে বলে বিরোধী সূত্রের খবর।

তামিলনাড়ুর তিরুপুরে রাধাকৃষ্ণানের জন্ম ১৯৫৭ সালে। আরএসএস থেকে তিনি জনসংঘের রাজ্য কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হন ১৯৭৪ সালে। জনসংঘ থেকে বিজেপির জন্ম হলে তিনি ১৯৯৬ সালে রাজ্য সম্পাদক নির্বাচিত হন। দুই বছর পর ১৯৯৮ সালের ভোটে বিজেপি ও এআইএডিএমকে জোট হলে রাধাকৃষ্ণান কোয়েম্বাতুর আসন থেকে জিতে লোকসভায় আসেন।

১৯৯৯ সালের ভোটেও ওই আসন থেকে রাধাকৃষ্ণান জেতেন। ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন তামিলনাড়ু বিজেপির সভাপতি। তাঁকে প্রার্থী করার মধ্য দিয়ে বিজেপি বুঝিয়ে দিল, সত্যপাল মালিক ও জগদীপ ধনখড়দের মতো ‘বহিরাগত’ ও ‘নব্য বিজেপির’ প্রতি দল আর আস্থা রাখতে চাইছে না। গুরুত্বপূর্ণ পদে তাঁদেরই পছন্দ করা হবে, যাঁরা সংঘের আদর্শে লালিত ও বিশ্বাসী।

তবে রাধাকৃষ্ণানকে উপরাষ্ট্রপতি পদে বাছাইয়ের পেছনে তামিলনাড়ুর মন জয়ের প্রচ্ছন্ন চেষ্টাও বিজেপির রয়েছে। আগামী বছর ওই রাজ্যের বিধানসভা ভোট। নতুন শিক্ষানীতির রূপায়ণ নিয়ে ওই রাজ্যের শাসক দল ডিএমকে-কংগ্রেস জোটের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের সম্পর্ক বিষিয়ে গেছে।

ডিএমকে সরাসরি অভিযোগ করেছে, বিজেপি রাজ্যে জবরদস্তি হিন্দি চাপানোর ছক কষেছে। স্কুল পর্যায়ে হিন্দি শিক্ষা বাধ্যতামূলক না করায় রাজ্যের দুই হাজার কোটি টাকার বেশি প্রাপ্য কেন্দ্রীয় সরকার আটকে রেখেছে।

তামিলনাড়ুর ডিএমকে মুখ্যমন্ত্রী এস কে স্ট্যালিন জনসংখ্যার ভিত্তিতে লোকসভার আসন ঠিক করার কেন্দ্রীয় প্রচেষ্টাতেও বাধা দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি দক্ষিণের বাকি রাজ্যগুলোকেও এক করতে চাইছেন। কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেখা যাবে, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সাফল্য পাওয়ার ‘অপরাধে’ লোকসভায় দক্ষিণ্যের রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব কমে যাচ্ছে। ফারাকটা এতই দাঁড়াবে যে দাক্ষিণাত্যের সমর্থন ছাড়াই হিন্দি বলয়ের দলগুলো দেশ চালাতে পারবে।

রাধাকৃষ্ণান মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই। তার আগে দেড় বছর তিনি ঝাড়খন্ডের রাজ্যপাল ছিলেন। তিনি তামিলনাড়ুর অনগ্রসর শ্রেণিভুক্ত।

আজ সন্ধ্যায় ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা এক ঘরোয়া বৈঠকে মিলিত হবেন। সকালে সংসদের অধিবেশন শুরুর আগেও তাঁরা নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলে সভাকক্ষের কৌশল স্থির করেন।

উপরাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী বাছাই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তৃণমূল কংগ্রেসের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের অত তাড়া নেই। আমরা ধীরেসুস্থে যা করার করব। তার আগে প্রশ্ন তুলব, কেন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়কে পদত্যাগ করতে হলো। তিনি কোথায় আছেন, সুস্থ আছেন কি না, তা জানানো সরকারের কর্তব্য। পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর থেকে কোথাও তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।’

লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্যরাই উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকারী। দুই কক্ষের সম্মিলিত সদস্যসংখ্যা এ মুহূর্তে ৭৮৬। উপরাষ্ট্রপতি পদে জয়ী হতে গেলে দরকার ৩৯৪টি ভোট। লোকসভায় শাসক এনডিএর সদস্য রয়েছেন ২৯৩ জন, রাজ্যসভায় ১৩৪। মোট সংখ্যা ৪২৭। তুলনায় বিরোধীদের রয়েছে ৩৫৫। অর্থাৎ বিরাট অঘটন না ঘটলে সি পি রাধাকৃষ্ণানের জয় স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।