
ভারতকে টুকরা করা বা ধ্বংস করার অপচেষ্টা ব্যর্থ হবে। রাস্তায় নেমে আন্দোলন করে সরকার বদল ঘটানো যাবে না। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবত মঙ্গলবার এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের নাগপুরে আরএসএসের বিজয়া দশমী উদ্যাপন মঞ্চ থেকে এই বার্তা দিয়ে মোহন ভাগবত বলেন, ভারতের অগ্রগতিতে ঈর্ষান্বিত অশুভ শক্তি দেশ ভাঙার চক্রান্ত করছে। তাদের চক্রান্তে একদল মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। এভাবে ‘সরকার পরিবর্তন’ বা ‘রেজিম চেঞ্জ’ আগে হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না।
গত মাসে আরএসএস মুখপত্র ‘অর্গানাইজার’–এ ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি), কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন প্রতিরোধে যে সুর বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, যেভাবে এই আন্দোলনকে ভারতবিরোধী শক্তির চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করা হয়েছিল, মোহন ভাগবত ঠিক সেই সুরেই কথা বলেছেন।
কথিত ভারতবিরোধীদের উদ্দেশ করে আরএসএস প্রধান বলেন, ভারত ওদের নিশানায় রয়েছে। কারণ, এই জমানায় ভারত প্রকৃত শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। অগ্রগতির পথে এগোচ্ছে। সার্বিক উন্নতি করছে। এই অশুভ শক্তিরা জানে, ভারত যেভাবে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগুলোর রূপায়ণ করছে, উন্নতি করছে, তারা তা ব্যাহত করতে পারবে না। তাই, তারা দেশকে টুকরা টুকরা করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের ছাত্র সংগঠন আইসা–এর নেত্রী ও সাম্প্রতিক বিক্ষোভের ‘পোস্টার গার্ল’ নেহা বোরা কয়েক দিন আগে বাংলাদেশের আন্দোলনের উল্লেখ করেছিলেন। প্রেরণা পাওয়ার কথা বলেছিলেন। বিশিষ্ট আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেছিলেন, জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ ও এসআইআর খারিজ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য সরকারের পতন ঘটানো।
সেই থেকে বিজেপির নেতা–নেত্রীরা ককরোচ ও বিরোধী আন্দোলনে ‘বিদেশি মদদ’ নিয়ে জোরালো ভাষায় আক্রমণ চালাচ্ছেন। এই আন্দোলনে যুক্তরাষ্ট্রের ধনকুবের জর্জ সোরসের আর্থিক সহায়তার কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মদদের কথা বলেছেন। পাকিস্তানের ষড়যন্ত্রের উল্লেখ করেছেন।
বিজেপি নেতারা বলছেন, বাংলাদেশে যেমন বিদেশি চক্রান্ত সরকারের পতন ঘটিয়েছে, ভারতেও তেমনই চেষ্টা চলছে। মোহন ভাগবতের কণ্ঠেও মঙ্গলবার তেমনই সুর শোনা গেল।
মোহন বলেন, বিশ্বের অনেক শক্তিই ভারতের পরাজয় চায়। ভারতকে শক্তিহীন দেখতে চায়। পশ্চিমা দেশগুলোয় একটা ঝড় উঠেছে। ফ্রান্সে কী হচ্ছে দেখুন। আলবেনিয়ায় কী ঘটেছে দেখুন। বাংলাদেশ ও নেপালের দিকে তাকান। ওই ঝড় এ দেশের সংস্কৃতি, শৃঙ্খলা, শিষ্টাচার ও মানবিক মূল্যবোধকে ঘৃণা করে। তারা এ দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক ব্যবস্থা সহ্য করতে পারে না। তারা চায় দেশটাকে ধ্বংস করতে। সংঘকে ধ্বংস করতে। নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে এসব শক্তি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অরাজকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে।
হিন্দুত্ববাদী আরএসএসের নেতা আরও বলেন, সরকারের বদল ঘটলে, সরকার পরিবর্তন হলে সব অনাচার শেষ হয়ে যাবে, এটা যাঁরা মনে করেন তাঁরা ভুল। এভাবে পরিবর্তন আসে না। যেকোনো সমস্যার সমাধানসূত্র সমাজ থেকেই উঠে আসে। সমস্যা থাকলে আন্দোলন হবে। গণতন্ত্রে আন্দোলন হবেই। সেই আন্দোলনের লক্ষ্য হওয়া উচিত সমাধানের পথ খোঁজা। দেশ ধ্বংস নয়।
মোহন ভাগবত বলেন, ‘কিছু অশুভ শক্তি ভারত, হিন্দু ও সংঘের অনিষ্ট কামনায় পরিকল্পনা করছে। ক্ষমতা দখলের ইচ্ছায় কিছু কিছু উচ্চাকাঙ্ক্ষী নেতা এর সঙ্গে যুক্ত। এদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে। এসব প্রতিবাদী গোষ্ঠী, রাজনৈতিক নেতা কেউই আমাদের ঐক্যবদ্ধ সমাজে ঘৃণা, সংঘাত, তিক্ততা বা বিভেদ সৃষ্টি করতে পারবে না।’